প্রকাশের সময়: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ । ৭:৪৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছাত্রদল সভাপতির সিট বাতিল, অনুমতি ব্যতিত হোস্টেল প্রাঙ্গনে প্রবেশ নিষেধ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশে (সিবিএমসিবি) সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাহির ইবনের হোস্টেলের সিট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে, আহত শিক্ষার্থীর দাবি ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবন ঘটনাস্থলে ছিল না এবং কে বা কারা তাকে পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করেছে- তাও সে দেখেনি।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে জরুরি সভা ডেকে অভিযুক্ত ছাত্র মাহির ইবনের সিট বাতিলের পাশাপাশি ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে বহিরাগতদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কলেজ প্রশাসনের এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে, আজ শনিবার ছাত্রদলের সভাপতি মাহির ইবনের কলেজের সিট বাতিল ও তাকে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানাজানি হয়।

কলেজ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, হোস্টেলের সিট বাতিল হওয়া শিক্ষার্থী মাহির ইবনে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের (সিবি-২৭ ব্যাচ) ৫ম বর্ষের ছাত্র। তিনি বর্তমানে শাখা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাকে সভাপতি ও ফারহান ইশরাককে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয়।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১৮ আগস্ট সিবিএমসিবির ৩১ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সিবিএমসিবি ডে’ উদযাপিত হয়। ওই দিন রাতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের (কনসার্ট) সময় হাঙ্গামা এবং পরবর্তীতে কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবনের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ২০ আগস্ট সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে মাহির ইবনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বয়কট করা হলো। একই সাথে তাঁর সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের (কমপ্লিট শাটডাউন) ঘোষণা দেন তাঁরা। বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, হোস্টেল প্রাঙ্গণে মাহিরকে পুনরায় দেখা গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ আগস্ট সকালে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মোর্শেদ আলমের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাহির ইবনের (মেডিকেল রোল-৫৪) বরাদ্দকৃত সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাঁর হোস্টেল প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

এবিষয়ে আহত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রাজিব তুর্জ বলেন, কলেজ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে আমি দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করি। এসময় পিছন থেকে আমাকে কে বা কারা ছুরিকাঘাত করেছে- তা আমি দেখিনি। এসময় ছাত্রদল সভাপতি মাহিব ইবন কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাহিব ইবন ভাই তখন ঘটনাস্থলে ছিল না।

সিট বাতিল হওয়া ছাত্রদল সভাপতি মাহিব ইবন বলেন, ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। বহিরাগতরা নারী শিক্ষার্থীর ছবি তুলাকে কেন্দ্র করে তাদের সাথে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রাজিব তুর্জ ছুরিকাঘাতের শিকার হয়। ছাত্রলীগপন্থী কিছু শিক্ষার্থীর চাপে আমাকে হোস্টেল থেকে সাময়িক বরখাস্ত ও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কলেজ প্রাঙ্গনে প্রবেশ নিষেধ করেছেন।

এবিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজুর রহমান বলেন, বিষয়টি কলেজের উপাধক্ষ মোর্শেদ আলম ভাল বলতে পারবেন বলে লাইন কেটে দেন। পরে একাধিবার তার নম্বরে ফোন করলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এবিষয়ে জানতে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোর্শেদ আলমের ফোন করলে তিনি কিছু বলতে রাজি হয়নি।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন