জনপ্রতিনিধি মানে বাড়ি গাড়ি এবং ক্ষতার দাপট। কিন্তু সততা এবং কঠোর পরিশ্রমে এমন ধারনা পাল্টে দিয়েছেন ইউপি সদস্য আজিজুল হক। নামমাত্র সরকারি ভাতার উপর নির্ভর না করে চালিয়ে যাচ্ছেন মুদির দোকান। বলছি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের দুধনই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিনের ছেলে আজিজুল হক(৩৫)। পেশায় তিনি একজন মুদির দোকানি। এক যুগের অধিক সময় ধরে উপজেলার দুধনই বাজারে ছোট্ট একটি মুদির দোকানে ব্যবসা করে আসছেন তিনি।
ব্যবসায়ী হিসেবে আশেপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে এলাকার লোকজন তাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার দাবি জানালে তিনি ২০২১ সালে প্রথমবার পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তরুণ জনপ্রিয় মুখ হিসেবে ভোটের মাঠে করেন বাজিমাত। বিজয়ী হন বিপুল ভোটের ব্যবধানে। নির্বাচনের পর থেকে জনসেবায় ব্যস্ত সময় পার করলেও সরকারি বেতন ভাতা পান নামমাত্র। যা দিয়ে চলে না তার পরিবার। ফলে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন মুদির দোকানের উপর। সকালে থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে বসে লোকজনকে দিয়ে যাচ্ছেন সেবা।
বিক্রয় সেবা এবং জনসেবা দুটোই চলছে সমান তালে। ইউপি সদস্যের মুদির এই দোকান শুধু তার নিজের জীবিকার উৎস নয় বরং সাধারন মানুষের সুখ দুঃখের কথা বলার আশ্রয়স্থল। তিনি দোকানে বসেই একদিকে ক্রেতাদের কাছে সদাই বিক্রি করেন অন্যদিকে জনগণের সমস্যার সমাধান দিচ্ছেন। এ যেন মুদির দোকানই সেবাকেন্দ্র। নিজেই দেখবাল করেন উন্নয়ন কর্মকান্ডের। ইউপি সদস্য আজিজুল হকের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
কাওয়ার কাওয়ারকান্দা গ্রামের রেজাউল ইসলাম বলেন, আমরা মেম্বারকে কখনো খেঁাজতে হয় না, বাজারে দোকানে গেলেই তাকে পাওয়া যায়। আমাদের যে কোন প্রয়োজনে ডাক দিলে পাশে পাই।
দুধনই গ্রামের জামাল উদ্দিন জানান, আজিজুল মেম্বারের মতো এমন মেম্বার আর কখনো কাউকে পাই নাই। কারও কাছ থেকে এক টাকাও নেন না। ব্যবসা করেই চলেন তিনি। টেঙ্গাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের মেম্বার খুবই আন্তরিকতার সাথে মানুষের কাজ করে দেন। আমারা চাই তার এমন কর্মকান্ড অব্যাহত থাকুক।
ইউপি সদস্য আজিজুল হক বলেন, জনগণ আমাকে ভালোভেসে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তাদের সেবা করার জন্য তবে ইউপি সদস্য হিসেবে যে বেতন ভাতা দেওয়া হয় তা একবারেই নগন্য। যা দিয়ে পরিবার চালানো কোন ভাবেই সম্ভব না, তাই বাধ্য হয়ে মুদির দোকানদারি করতে হচ্ছে, দোকান থেকে যা আয় করি তা দিয়ে পরিবার চালাই।

৭৫ বাংলাদেশ ডেস্ক।।