কাবিখা প্রকল্পে চাল ও গম মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের প্রায় প্রতিটিতেই অফিস থেকেই ১২-১৪ শতাংশ কমিশন কেটে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও বাশার নামে এক ব্যক্তি অফিসের অধিকাংশ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ, বিল প্রক্রিয়াকরণ, কমিশন আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে তার সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পিআইও ও বাশারকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রকল্পের অর্থের একটি বড় অংশ কমিশন ও বিভিন্ন খাতে চলে যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে মানহানি ও অনিয়ম সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ।
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইস্রাফিল হোসাইনের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে “ম্যানেজ মানি’ নামে ১২-১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বিল ছাড়, বরাদ্দ সমন্বয় ও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অজুহাতে এই অর্থ কেটে রাখা হয়। যদিও মসজিদভিত্তিক প্রকল্পে তুলনামূলক কম কমিশন নেওয়া হয় বলে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আগে ১০ শতাংশ কমিশন নেওয়া হলেও বর্তমানে অধিকাংশ প্রকল্পে ১২-১৪ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ কেটে রাখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পিআইও ইস্রাফিল হোসাইন বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সমন্বয় করার প্রয়োজন হয় বলেই এই অর্থ রাখা হয়। তবে কোথায় বা কীভাবে এই অর্থ ব্যয় হয়-সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। সাংবাদিকদেরও “এখান থেকেই ম্যানেজ করতে হয়” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কোটি টাকার প্রকল্পে কমিশনের অভিযোগ :
জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাজিরা উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায়-
টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্প। ৯১টি, বরাদ্দ প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
কাবিটা প্রকল্প: ৬৪টি, বরাদ্দ প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ :
সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, অনেক প্রকল্পেই নিম্নমানের কাজ, অপর্যাপ্ত বাস্তবায়ন এবং শ্রমিক ব্যবহারের পরিবর্তে যন্ত্রের ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে-
একই স্থানে একাধিক প্রকল্প দেখানো, প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে অর্থ উত্তোলন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি স্থাপনে অনিয়ম, অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে বিল উত্তোলনের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
বিশেষ করে কুন্ডেরচর ইউনিয়নের একাধিক সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পে
চেয়ারম্যানদের ক্ষোভ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, প্রকল্পের অর্থ থেকে কমিশন কেটে নেওয়ার কারণে সঠিকভাবে কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের অর্থ ব্যয় করে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হয়।
অন্যদিকে একজন চেয়ারম্যান পিআইওর মসজিদ প্রকল্পে কম কমিশন নেওয়ার দাবির সত্যতা যাচাই করতে অফিসে
ফোন করলে তাকে জানানো হয়, সেখানেও ১০ শতাংশ কেটে রাখা হয়েছে।
‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টার অভিযোগ
প্রতিবেদককে ‘সমঝোতা’ করার প্রস্তাব এবং বিকাশে
পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হলে পরে একটি খামে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ময় করার চেষ্টা করা হয় বলেও প্রতিবেদকের দাবি।
এ বিষয়ে বক্তব্য চাইলে বাশার কোনো মন্তব্য না আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার অনুরোধ জানান
পিআইওর বক্তব্য
পিআইও ইস্রাফিল হোসাইন ক্যামেরার সামনে আনুষ্ঠ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে অফ ক্যামেরায় ক নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বিভিন্ন জায়গায় সম প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পরে তিনি বলেন, ‘বক্তা আর কী দরকার?” এবং কুন্ডেরচর ইউনিয়নের প্রকল্প পর্যালোচনার জন্য এক সপ্তাহ সময় চান।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
জাজিরা উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্ম (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পাওয়া প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তা নাজনীন শামিমা ক
অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লি বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও ন “পার্সেন্ট কেটে নেওয়া কোনো অফিসিয়াল পদ্ধতি নয়। জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, বিষয়টি ইউএ মাধ্যমে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আল অভিযোগের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন, অনিয়ম পাওয়া গেলে বিল স্থগিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অ দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রক অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নে প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনিয়মের কারণে ক্ষি প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে জনস্বার্থে যথাযথ বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্টাফ রিপোর্টার।।