ময়মনসিংহ নগরীর সি. কে. ঘোষ রোড এলাকার সরকারি খতিয়ানভুক্ত একটি জমিতে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় মালিকানা, বৈধতা এবং সরকারি নজরদারি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, জমিটি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা সরকারি সম্পত্তি। অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন জমি বলে দাবি করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে একই স্থানে ইমারত নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। সে সময় অভিযোগ ওঠে, সরকারি খতিয়ানভুক্ত এবং “পুকুর” শ্রেণিভুক্ত জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয় এবং সেখানে একটি সতর্কীকরণ নোটিশ বোর্ড টানানো হয়।
সেই নোটিশে উল্লেখ ছিল—
“এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, নিম্ন তফসিলভুক্ত জমি নিয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ৩৪৬/২০১৭ নং সিভিল রিভিউ মোকদ্দমা চলমান। সুতরাং উক্ত স্থানে অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”
নোটিশে আরও উল্লেখ ছিল
মৌজা: ময়মনসিংহ টাউন
খতিয়ান নং: ১
দাগ নং: ৭১১০
জমির শ্রেণি: পুকুর
পরিমাণ: ০.২৬২০ একর (প্রায় ২৬.২০ শতাংশ)
কিন্তু গত ৫ জুলাই ২০২৬ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্বের সেই নোটিশ বোর্ডটি আর সেখানে নেই।
একই স্থানে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে নতুন একটি স্থাপনার নির্মাণকাজ চলছে। তবে নির্মাণাধীন প্রকল্পের কোনো সাইনবোর্ড, অনুমোদনের তথ্য কিংবা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় সেখানে প্রদর্শিত হয়নি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিটির মালিকানা নিয়ে নানা মত রয়েছে। কেউ বলছেন এটি সিটি করপোরেশনের জায়গা, আবার কেউ দাবি করছেন এটি জেলা প্রশাসনের অধীন সরকারি খাস জমি। এমন বিভ্রান্তির কারণে প্রকৃত মালিকানা ও নির্মাণকাজের বৈধতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি জানতে উপজেলা ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খতিয়ান নং-১ এর সম্পত্তিগুলো বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। তবে নির্দিষ্ট দাগ নম্বরের বর্তমান মালিকানা যাচাইয়ের জন্য খতিয়ানের ২ নম্বর বই অনুসন্ধান করা হলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসের এক কর্মচারী বলেন, সম্ভবত প্রয়োজনীয় কাজের জন্য কেউ খতিয়ানের বইটি অফিসের বাইরে নিয়ে গেছেন। এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) চাইলে দ্রুতই বইটি বের করা সম্ভব হবে।
এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, খতিয়ান নং-১ এর সম্পত্তিগুলো বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক রক্ষণাবেক্ষণ করেন।
এ অবস্থায় সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, যদি জমিটি সরকারি খতিয়ানভুক্ত এবং পূর্বে আদালতে বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে আবার কীভাবে নির্মাণকাজ শুরু হলো? কার অনুমতিতে কাজ চলছে? নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও জানতে চান তারা।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি নিয়ে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি দূর করতে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং ভূমি প্রশাসনের যৌথভাবে বিষয়টি জনসমক্ষে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের বৈধতা, আদালতের মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিলে জনমনের সংশয় দূর হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

নাজমুল হাসান,ময়মনসিংহ।।