প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬ । ১১:৫৫ অপরাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাগেরহাটে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ময়মনসিংহের ডিসি-ইউএনও

আরিফ রব্বানী ময়মনসিংহ।।

বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত ফাতেমা আক্তার (৭) নামের অনাথ শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তাদের জেলা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন দিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

বৃহস্পতিবার (২৫জুন) সকালে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৬ হাজার টাকা ও ২বান্ডেল ঢেউটিন তুলে দেওয়া হয় নিহত শিশু ফাতিমার মা ফজিলা খাতুনের হাতে। এর আগে গত ১লা জুন সোমবার রাতে ৮ বছর বয়সী শিশু ফাতেমাকে বাগেরহাট খাঁন জাহান আলী (রঃ) এর মাজারের দিঘির পানিতে টেনে নিয়ে যায় দিঘির পানিতে থাকা কুমির। পরে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করার পরই নিরাপত্তার স্বার্থে কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সুত্র জানিয়েছে- ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চর খরিচা গ্রামের মমরুজ আলীর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান নিহত ফাতেমা খাতুনকে
প্রায় এক বছর বয়সে সাথে নিয়ে গিয়ে বাগেরহাটের খাঁন জাহান মাজারে দিঘির পাড়ে বসবাস করতো শিশুর মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন মা ফজিলা খাতুন। তখন থেকেই সে মাজার চত্বরেই ভবঘুরে হিসেবে আশ্রিত ও বসবাসরত ছিল মা ও কন্যা শিশু ফাতেমার। মাজার এলাকাতেই তার বেড়ে ওঠা, খাওয়া ও গোসল চলত। প্রায় সাড়ে তিন বছর ছোট্ট ফাতেমাকে নিয়ে মা ফজিলা খাতুন অবস্থান করার পর গত ১লা জুন সোমবার রাত ৮টার দিকে ফাতেমাকে পানিতে টেনে নিয়ে যায় মাজারের দিঘিতে থাকা কুমির। পরে
এক দিন পর মঙ্গলবার ভোরে দিঘি থেকে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে দুপুরে মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে দিঘির পাড়ে দাফন করা হয়।

দিঘিতে শিশু ফাতেমার মৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর এসব খবর ও ভিডিও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম এর নজরে পড়লে জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের দিক-নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত শিশু ফাতেমার মাকে নগদ ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিততে তার পক্ষে নগদ অর্থের চেক তুলে দেন স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) উম্মে হাবিবা মীরা। অপরদিকে সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ তেকে নগদ ৬ হাজার টাকা ও ২বান্ডেল ঢেউটিন তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজা ।

সুত্র মতে জানা গেছে- প্রায় ২৮ বছর আগে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর খরিচা গ্রামের মমরুজ আলীর সঙ্গে সদর উপজেলার চর হরিচাঁদ গ্রামের ফজিলা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের দম্পত্য জীবনে তিন মেয়ে ও দুই ছেলে জন্ম গ্রহণ করে। পাঁচ সন্তানের মধ্যে কুমিরের আক্রমণে নিহত ফাতেমা খাতুন ছিল সবার ছোট।

এদিকে খোজ খবর নিয়ে অসহায় এই পরিবারকে সহায়তা দেওয়ায় জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি মানবিক জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামের ভূয়সী প্রশংসায় মেতেছেন অসহায় পরিবারের সদস্যদের সাথে উপজেলার সদরের চর খরিচা ও চর হরিচাঁদ গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন