প্রকাশের সময়: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬ । ১:৩০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঈশ্বরগঞ্জে আসামি না পেয়ে ছাগল বিক্রির টাকা নিয়ে গেলেন এসআই

সেলিম মিয়া।।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মারামারির মামলায় আসামি ধরতে গিয়ে ঘর তল্লাশির সময় ঘরে থাকা কৌটার ভেতর থেকে সাড়ে ২৫ হাজার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১ জুন) বিকালে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভোক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, বাড়িতে আসামিকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আব্দুর রাজ্জাক। তল্লাশির একপর্যায়ে ঘর থেকে নগদ সাড়ে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা।
ভুক্তভোগী কমলা খাতুন গণমাধ্যমকে    বলেন, ‘গত সোমবার বিকাল ৩টার দিকে মারামারি মামলায় আমার স্বামী বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য আব্দুর রাজ্জাকসহ চারজন পুলিশ সদস্য আমাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। সে সময় বাচ্চু মিয়া বাড়িতে না থাকায় পুলিশ সদস্যরা আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন। রাজ্জাক গালমন্দ করতে বাদ রাখেননি আমার ছোট ছেলেকেও।
কমল খাতুনের দাবি, প্রথমে আব্দুর রাজ্জাক একাই তার ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালান। পরে অন্য পুলিশ সদস্যদেরও ঘরে ডেকে নেন এবং ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করেন।
এ সময় কমলা খাতুনের কাছে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার তল্লাশি করা হয় বলে তিনি জানান।
কমল খাতুন আরও বলেন, ‘ঈদুল আজহার আগে দুইটি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া টাকার মধ্যে ৩৪ হাজার টাকা ঘরে রাখা ছিল। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫০০ টাকা কিস্তি দেওয়ার জন্য আলাদা করে রাখা ছিল এবং বাকি ২৫ হাজার ৫০০ টাকা কাপড়ের ভাঁজে রাখা ছিল। পুলিশ চলে যাওয়ার পর  টাকা খুঁজতে গিয়ে দেখি ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নেই। ঘরে প্রথমে রাজ্জাক পরে আরও তিনজন পুলিশ সদস্য ঢুকেন। তাদের বাইরে অন্য কেউ ঘরে ঢুকেনি। আমার টাকা কোথায় গেল? আমি তার উত্তর চাই। আর আমাকে ও আমার সন্তানকে কেন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করল তার বিচার চাই।’
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে কমলা খাতুন বলেন, ‘থানার ওসির মাধ্যমে বিচার না পেলে আমি পুলিশ সুপার (এসপি) ও ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করব।
গ্রামের লাল চান, সোহেল ও শেখান্দর বলেন, একজন আইনের লোক হয়ে তিনি এভাবে মানুষের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে পারেন না। এতে আমরা ভীষণ মর্মাহত হয়েছি।
গণমাধ্যমকে  আব্দুল রাজ্জাক মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনার দিন মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। আসামিকে না পেয়ে নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি চালিয়ে চলে আসি। আমার বিরুদ্ধে আনা টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম গণমাধ্যমকে  বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি   । এ নিয়ে কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অনুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন