প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ । ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা করে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারকারী চক্রের ০৮ সদস্য সিআইডি কর্তৃক গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার।।

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ মোট ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।

গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা- বিকাশ, রকেট ও নগদ, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করতো। পরবর্তীতে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি প্রলোভিত করে তারা গত প্রায় ৬ মাস ধরে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করতো এবং এর একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করে আসছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন :
(০১) মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২), পিতা- মৃত আব্দুস কুদ্দুস, মাতা- মৃত সৈয়দা মাসুমা বেগম, সাং- পঞ্চবটী, থানা-ভৈরব, জেলা-কিশোরগঞ্জ; (০২) সজীব চক্রবর্তী (২৯), পিতা- বিপুল চক্রবর্তী, মাতা- রেখা রানী, সাং- হাপানিয়া, থানা-বাজিতপুর, জেলা-কিশোরগঞ্জ; (০৩) মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), পিতা- মো. তাজুল ইসলাম, মাতা- হামিদা খাতুন, সাং-কালিয়ারকান্দা, থানা ও জেলা- কিশোরগঞ্জ; (০৪) মো. জসীম উদ্দীন (৩৬), পিতা- মো. ইউছুফ আলী, মাতা- জামিলা খাতুন, ঠিকানা. সাং- চর নিয়ামত, থানা- ফুলপুর, জেলা- ময়মনসিংহ; (০৫) তৈয়ব খান (২৬), পিতা- আবুল বাশার খান, মাতা- নূরজাহান বেগম, সাং- হাসানহাটা, থানা- পলাশ, জেলা- নরসিংদী; (০৬) সৌমিক সাহা (২৮), পিতা- স্বপন সাহা, মাতা- রানু রানী সাহা, সাং- তালতলা, থানা- পলাশ, জেলা- নরসিংদী; (০৭) মো. কামরুজ্জামান (৩৬), পিতা- আব্দুর রহমান, মাতা- নাছরিন আক্তার, সাং- আদম আলো পাটওয়ারী বাড়ী, থানা- রামগঞ্জ, জেলা- লক্ষ্মীপুর ও (০৮) আব্দুর রহমান (৪৭), পিতা- শেখ মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, মাতা- জুমেলা, সাং- পাচলীপাড়া, থানা- কটিয়াদি, জেলা- কিশোরগঞ্জ।

জানা যায়,
সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় দেখতে পায় যে, কিছু চক্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনা করছে। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করছিল। এই প্রেক্ষিতে পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৪১, তারিখ: ১৬/১১/২০২৫ খ্রি.) রুজু করা হয়।

তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সিআইডি প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ০৬/০৫/২০২৬ খ্রি. সিআইডি’র একটি দল ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের প্রথম ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন: ১) মো: আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২), ২) সজীব চক্রবর্তী (২৯), ৩) মো: আশরাফুল ইসলাম (৪০) ও ৪) মো: জসীম উদ্দীন (৩৬)।

প্রথমে গ্রেফতারকৃত এই চার আসামিদের দেওয়া তথ্য এবং সাইবার পুলিশ সেন্টারের ২৪/৭ অনলাইন সার্ভিলেন্স (Online Surveillance) ডেটা নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে গত ১৬/০৫/২০২৬ খ্রি. নরসিংদী জেলার পলাশ থানা এবং ঢাকার ধানমন্ডি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: ১। তৈয়ব খান (২৬), ২। সৌমিক সাহা (২৮), ৩। মো: কামরুজ্জামান (৩৬) ও ৪। আব্দুর রহমান (৪৭)।

জব্দকৃত আলামতঃ
ধারাবাহিক দুইটি সফল অভিযানে সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে মোট ১৩টি মোবাইল ফোন, যার মধ্যে প্রথম অভিযানে ৭টি এবং দ্বিতীয় অভিযানে ৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মোট ২০টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযানে ২টি এজাহারভুক্ত বিকাশ এজেন্ট সিম এবং দ্বিতীয় অভিযানে ১৮টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ২টি নির্দিষ্ট কাস্টমার কপিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কুরিয়ার রশিদও জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্যঃ
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি চক্রের একাধিক সদস্য স্বীকার করেছে যে, বিগত ৬ মাসেরও অধিক সময় ধরে সংঘবদ্ধ এই চক্রটি অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলোভিত করে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করতো। পরবর্তীতে ওই অর্থের একটি বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতো।

অনলাইন জুয়া সংক্রান্তে সিআইডির সাইবার পেট্রোলিং কার্যক্রমঃ
অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি-এর সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
চলতি (মে/২০২৬) মাসের ১ তারিখ হতে আজ পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিংয়ে সিআইডি কর্তৃক—
• জুয়ার সাথে জড়িত ওয়েবসাইট শনাক্ত করে ডাউন করার জন্য বিটিআরসিতে প্রেরিত ওয়েবসাইটের সংখ্যা: ১১৬টি
• অবৈধ লেনদেনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিএফআইইউতে প্রেরিত এমএফএস হিসাবের সংখ্যা: ৮৭৯টি
• অবৈধ লেনদেনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিএফআইইউতে প্রেরিত ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা: ৪৩টি

অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম প্রতিরোধে সিআইডির এ ধরনের সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধের র্পূণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন