ময়মনসিংহ মহিলা (ডিগ্রি) কলেজে সরকারি বিধিমালা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা তোয়াক্কা না করে অনিয়ম দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফারহানা পারভীন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফারহানা পারভীনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে কনিষ্ঠ হয়েও ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ এবং প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ড ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, অদৃশ্য শক্তির বলয়ে কলেজের সর্বকনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদটি ভাগিয়ে নেন ফারহানা পারভীন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে তার এই ‘রামরাজত্ব’ কায়েমের এক হস্তে মাসুমা আরেক হস্তে রাসেল। কলেজে কোনো অনার্স কোর্স চালু না থাকলেও শিক্ষকদের ‘অনার্সের নিয়োগপত্র’ দেখিয়ে ২০১৮ সাল থেকে অদ্যাবধি নিয়মিত বেতন—ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে অবৈধভাবে এই অর্থ লোপাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক খাতে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। কোচিংয়ের নামে টাকা আদায়, বিশেষ ক্লাসের তহবিল এমনকি কলেজের পুরোনো কাগজ বিক্রির টাকা পর্যন্ত কোনো খাতে নেই স্বচ্ছতা। এসব অর্থের একটি বড় অংশ সরাসরি এই সিন্ডিকেটের পকেটে।
অধ্যক্ষ ফারহানা পারভীন জোরালো যুক্তি দিতে না পারলেও, তার পক্ষে ‘মুখপাত্র’ হিসেবে কাজ করছেন শিক্ষক মাসুমা। নিয়োগ থেকে শুরু করে দুর্নীতি—সব বিষয়েই তিনি অধ্যক্ষের হয়ে সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন, যা কলেজের সাধারণ মহলে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফারহানা পারভীনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি শুরুতে অভিযোগগুলোকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরই ‘নতুন সময়’—এর প্রতিনিধির ফোনে পাল্টা কল করে সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে হেনস্তার চেষ্টা করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বামী পূর্বধলা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রায়হান।
ময়মনসিংহ মহিলা (ডিগ্রি) কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আজহার জানান, নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরিপত্র আছে পুঙ্গানুপুঙ্খভাবে যাচাই—বাছাই করে দিয়েছি। তবে উপস্থিত সদস্যদের মাঝে বাখ্যা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। আমরা ২/১জন শিক্ষক বলেছিলাম এভাবে নিয়োগ না দিতে। শেষ পর্যন্ত তাদেরটাই দেয়া হলো। তবে এ নিয়োগে ত্রুটি রয়েছে।
ময়মনসিংহ মহিলা কলেজের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজ।

৭৫ বাংলাদেশ ডেস্ক।।