প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬ । ৮:১৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কাঁচামাটিয়া নদী রক্ষায় ঈশ্বরগঞ্জে পিএফজি’র মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ।।।।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী কাঁচামাটিয়া নদীকে অবৈধ দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে নব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক সময়ের প্রমত্তা কাঁচামাটিয়া নদী আজ প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখল এবং নির্বিচারে বর্জ্য ফেলার কারণে সরু খালে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকে রাস্তা নির্মাণ ও অপরিকল্পিত ভরাটের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে নদীটি অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

পিএফজি কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, কাঁচামাটিয়া নদী আমাদের অঞ্চলের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই নদী বাঁচানোর কোনো বিকল্প নেই। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ড্রেজিং শুরু করে নদীর নব্যতা ফিরিয়ে আনুক।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর এ.কে.এম. আতিকুর রাজ্জাক ভূঁইয়া হীরা বলেন, কাঁচামাটিয়া নদী শুধু ঈশ্বরগঞ্জের মানচিত্রের একটি রেখা নয়, এটি আমাদের কৃষি ও অস্তিত্বের প্রাণস্পন্দন। এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহলের সীমাহীন লোভের বলি হতে চলেছে এই নদী। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই নদীর বুকে অবৈধ স্থাপনা আর বরদাশত করা হবে না। আগামীর প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামাল হোসেন সরকার বলেন, নদী দখল ও দূষণ আমাদের পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় আমরা রাজপথে ছিলাম এবং থাকবো। অবিলম্বে নদী খনন ও দখলমুক্ত করা না হলে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
স্মারকলিপিতে নদী রক্ষায় ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবীগুলো হলো, কাঁচামাটিয়া নদীর সকল অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা। নদীতে বর্জ্য ফেলা ও দূষণ বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জরুরী ভিত্তিতে নদী খনন (ড্রেজিং) কার্যক্রম শুরু করে নাব্যতা পুনরুদ্ধার করা। নদীর তীর সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম গ্রহণ করা। নদী রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে স্থায়ী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা। নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ ইউসুফ লিটন, উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি হামিদ, সুজন সম্পাদক নীলকণ্ঠ আইচ মজুমদার, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মমতাজ বেগম, পিএফজি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, হাবিবুর রহমান শাহীন ও আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ। কর্মসূচিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। স্মারকলিপির অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন