নেত্রকোণার মদন উপজেলার চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ ওরফে সাগরকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাব—১৪। পরে বেলা ১২টায় র্যাব কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিং করেন ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান।
বুধবার (৬ মে) ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে সাগর তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন রাখতেন না, ফলে তার অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে র্যাব—১৪ ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। পরবতীর্তে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র্যাব আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আমানুল্লাহ মাহমুদী নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলার ‘হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল। গত ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর বিকেলে মাদরাসা ছুটি হওয়ার পর, অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীকে ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদের বারান্দায় ডাকেন। পরবর্তীতে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে জানান।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট এবং ওই ছাত্রী ও তার নানাকে ঘিরে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব—১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের আগে ডিএনএ পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। আসামি যখন গ্রেপ্তারই হয়নি তখন ডিএনএ টেস্ট হবে কিভাবে! তদন্তের প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করতে হলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।
শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা ডা. সায়মা আক্তারের নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেত্রকোণা জেলা পুলিশের এসপির মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যারা চিকিৎসককে হুমকি দিচ্ছে, তাদের বিষয়টি র্যাবের সাইবার টিম পর্যবেক্ষণ করছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া সাগর মদন উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা। সে তার নানির সঙ্গে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ এবং মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নেত্রকোণার মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

জহির রায়হান ।।