গাজীপুর জেলা হিসাবরক্ষণ ও ফিন্যান্স অফিসে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতি চক্র সক্রিয় রয়েছেড় এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, বেতন-ভাতা, পেনশন, পারিবারিক পেনশন, এলপিসি, জিপিএফ ফান্ড, উন্নয়ন ও ঠিকাদারি বিলসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য চলছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ ও সেবা, মেরামত ও সংরক্ষণ, উন্নয়ন খাতের বিল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন, অনুদান ও ঋণ, জিপিএফ ফান্ডের অগ্রিম ও চূড়ান্ত পরিশোধ, গৃহ নির্মাণ ও ভ্রমণ ভাতা, জিপিএফ ব্যালেন্স হস্তান্তরসহ নানামুখী আর্থিক কার্যক্রম ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা হিসাবরক্ষণ ও ফিন্যান্স অফিসের সুপারিনটেন্ডেন্ট খালেদা আক্তার। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আছেন অডিটর মাহমুদা আক্তার। জেলা হিসাবরক্ষণ রক্ষণ ও ফিন্যান্স কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম নীরব থেকে বাণিজ্যের একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন বলেও অভিযোগ
রয়েছে। গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানা এলাকার বাসিন্দা খালেদা আক্তার প্রায় চার বছর ধরে এ অফিসে দায়িত্বে আছেন। অভিযোগে বলা হয়, তার নির্দেশনায় অডিটররা কাজভেদে ঘুষ দাবি ও আদায় করে থাকেন। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করা হয়। নগরীর পোড়াবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা কিবরিয়া হোসেনকে গত ফেব্রুয়ারিতে কাপাসিয়া কৃষি অফিসে বদলি করা হয়। তার বেতন স্থানান্তর সংক্রান্ত এলপিসির জন্য পোড়াবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের কম্পিউটার অপারেটর নয়ন মিয়া জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে গেলে অডিটর সোলায়মান হোসেন তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। কিবরিয়া হোসেন বলেন, “টাকা না দেওয়ায় আমার এলপিসি ঝুলে আছে। ফলে ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বেতন, ঈদ বোনাস ও বৈশাখী ভাতা পাইনি। আমি আর্থিকভাবে চরম সংকটে আছি। তিনি আরও বলেন, বাড়ি ভাড়ার অজুহাতে ইচ্ছাকৃতভাবে এলপিসি আটকে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অডিটর সোলায়মান হোসেন দাবি করেন, বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত
বিষয় না থাকায় এলপিসি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, নয়ন মিয়া একপর্যায়ে ৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন, পরে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এদিকে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ বিলের চেক ইস্যুর ক্ষেত্রেও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অডিটর মাহমুদা আক্তার-এর মাধ্যমে প্রতি চেকে ৮ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৭৩ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন খোকন মহাহিসাব নিরীক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায় বলে দাবি করা হয়। অডিটর মাহমুদা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। সুপারিনটেন্ডেন্ট খালেদা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কেউ প্রমাণ দিতে পারলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব।” তিনি দাবি করেন, অভিযোগের তদন্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা হিসাবরক্ষণ ও ফিন্যান্স কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্টাফ রিপোর্টার।।