প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ । ২:৪৬ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিতর্কিত ওসি’রা পুনর্বহাল! ময়মনসিংহ রেঞ্জে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি’র কল্যাণে আওয়ামী লীগ আমলে দায়িত্ব পালন করা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর জুলুম নির্যাতনকরী আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সমর্থিত পূর্বের বহু থানার ওসি এখনও বহাল রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে শুধু এক থানা থেকে অন্য থানায় বদলি করেই দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহের বাইরে থেকে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে এনে জেলার বিভিন্ন থানায় নতুন করে ওসি পদায়ন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত সরকার আমলে ওসি পদে বঞ্চিত বিপুলসংখ্যক পরিদর্শক এখনও বঞ্চিতই রয়ে গেলেন। এতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের বিভিন্ন থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদায়নকে কেন্দ্র করে অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওসি পদায়ন ও বদলির ধারায় পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ময়মনসিংহ রেঞ্জের সকল ওসিদের ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে রিকুইজিশন দিয়ে আবারও ময়মনসিংহের বিভিন্ন থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

এই পুনর্বহালকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠেছে কী বিবেচনায় তাদের আবার দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা স্পষ্ট নয়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদায়ন প্রক্রিয়ায় রেঞ্জ ডিআইজি আতাউল কিবরিয়ার নির্দেশনায় পুলিশ সুপার আদেশ জারী করে মর্মে দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়।এমন একজন পুলিশ পরিদর্শক কে কেন্দুয়া থানায় পদায়নের এক ঘন্টার মধ্যেই বদলি আদেশ বাতিল করে নিয়ে আনা হয়েছে।

কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, নয়া ওসি মোঃ আব্দুল মজিদ আওয়ামী শাসন আমলের বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতনকারী ছিলেন। ময়মনসিংহের নান্দাইল ও মুক্তাগাছা থানার ওসি হিসাবে কর্মরত ছিলেন মোঃ আব্দুল মজিদ। তার মত একজন ফ্যাসিষ্ট কর্মকর্তাকে কিভাবে ওসি পদায়ন করা হয়েছে এবিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম হিলালী ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়ার নির্দেশনায় ফ্যাসিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ছলচাতুরির মাধ্যমে পদায়নের কাজ জোরেশোরে চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত একজন প্রভাবশালী বিশেষ সহকারীর বিরুদ্ধে নির্বাচন বানচালে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। সেই তৎপররতার অংশ হিসেবে পুলিশে বিএনপির প্রতি ন্যায়বিচার দিতে পারে এমন কর্মকর্তাদের সরিয়ে বিভিন্ন রেঞ্জে কিছু ‘গুপ্ত’ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পদায়ন ব্যবস্থাপনার মধ্যে ডিআইজি আতাউল কিবরিয়ার নামও রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সুত্রে জানা যায়, আতাউল কিবরিয়া পুলিশের বগুড়া গ্রুপের সাথে সখ্যতা রেখে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টায় রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়েরকৃত অভিযোগের বাদী আজিজুল ইসলাম জানান, আমি ন্যায় বিচারের স্বার্থে এবং জনস্বার্থে একটি অভিযোগ দাখিল করেছি। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এ ঘটনার সত্যতা জানতে ডিআইজি আতাউল কিবরিয়ার সরকারি নম্বরে একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

পুলিশের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, ছাত্রলীগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন কর্মকর্তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেক বঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আমরা আগেও বঞ্চিত ছিলাম, এখনো বঞ্চিত রয়েই গেলাম ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মোঃ আব্দুল মজিদ, যিনি মুক্তাগাছা ও নান্দাইল থানায় দায়িত্ব পালন করে ২০২৪ সালের নির্বাচন সম্পন্ন করেন।

৩০ এপ্রিল তাকে প্রথমে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার ওসি হিসাবে পদায়ন করা হলেও এক দিনের মাথায় সেই আদেশ পরিবর্তন করে জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে নেত্রকোনা জেলা আদালতের ইন্সপেক্টর হিসেবে পদায়ন করা হয়। এখানে প্রশাসনিক অদক্ষতা যেমন দৃশ্যমান তেমনি সরকারের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না।

পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল মজিদ এ বিষয়ে বলেন, “আমাকে কেন্দুয়া থানায় পদায়নের এক ঘণ্টার মধ্যেই সেই আদেশ বাতিল করা হয়। ডিআইজি স্যার কেন আমাকে ওসি হিসেবে পদায়ন করেছিলেন এবং পরে কেন তা প্রত্যাহার করা হলো এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে জেলার গোয়েন্দা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ফ্যাসিস্ট সহযোগিতার কারণেই পদায়ন বাতিল হয়েছে।

নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুর রহমান বলেন, “ওসি আব্দুল মজিদের ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে ওসির পোস্টিং আমরা দিই না। পোস্টিংয়ের দায়িত্ব ডিআইজি স্যারের। তিনি যেহেতু ডিআইজি স্যারের মাধ্যমে পদায়ন পেয়েছেন, বিষয়টি তার এখতিয়ারেই হয়েছে।”আওয়ামী শাসন আমলে প্রভাবশালী ওসিদের মধ্যে মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানা ও জামালপুর সরিষাবাড়ি এবং জামালপুর ডিআই-১ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ৫ আগস্টের পর ফুলপুর থানা ও বর্তমানে ফুলবাড়িয়া থানায় ওসি হিসেবে দাপটের সাথেই কর্মরত আছেন।

মেলান্দহ থানার সাবেক ওসি মোঃ শফিকুল ইসলাম আওয়ামী শাসনামলে ২০২৪ সালের নির্বাচনে জামালপুরের বকশিগঞ্জ থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জনতার হামলায় আহত হন তিনি। পরবর্তীতে পুলিশের গাড়ি আগুনে পুড়ে দেয় জনতা। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরবর্তীতে তিনি মেলান্দহ থানায় ওসি এবং বর্তমানে দোবাউড়া থানার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আল-মামুন সরকার আওয়ামী শাসনামলে ময়মনসিংহের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মঈনুল হকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মোঃ আল মামুন সরকার নারায়ণগঞ্জ ও যশোর জেলায় ডিআই-১ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার মইনুল হক তাকে ময়মনসিংহ নিয়ে আসেন।

তিনি আওয়ামী লীগের শাসন আমলে দীর্ঘদিন ময়মনসিংহ জেলায় ডিআই-১ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে তাকে ময়মনসিংহের দোবাউড়া থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয় এবং সেখান থেকে প্রাইস পোস্টিং হিসাবে নেত্রকোনা সদর থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে সেখানেই কর্মরত আছেন।

অন্যদিকে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি পুলিশ পরিদর্শক মো. শামসুল হুদা খানকে ২০ এপ্রিল ময়মনসিংহ রেঞ্জে বদলি করা হলেও মাত্র ৯ দিনের মধ্যে রহস্যজনক কারণে তার বদলি আদেশ স্থগিত করা হয় যা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে তাকে নিপীড়ন মুলক পদে সামাজিকভাবে নিগৃহীত করা হয়।

এই বিবেচনায় পুলিশ পরিদর্শক শামসুল হুদা খানকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ময়মনসিংহ ভালুকা মডেল থানায় ওসি হিসাবে সাবেক ডিআইজি ড. মোঃ আশরাফুর রহমান পদায়ন করেন।

পরবর্তীতে ছয় মাসের মাথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের নিমিত্ত ডিআইজি আশরাফুর রহমান বদলি হন পুলিশ অধিদপ্তরে। নতুন ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া যোগদান করেই ভালুকা মডেল থানার ওসি শামসুল হুদা খানকে রিপোর্ট যা পরবর্তীতে তদন্তে মিথ্যা প্রতীয়মান হয়, তাকে নিপীড়নমূলক চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়। তারপর ভালুকা মডেল থানায় সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবীরকে ওসি হিসাবে ভালুকা মডেল থানায় পদায়ন করেন সাবেক পুলিশ সুপার আখতার উল আলম।

এই ঘটনায় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ অধিদপ্তর থেকে রংপুর রেঞ্জে বদলি আদেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অধিদপ্তর থেকে তদন্ত দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ময়মনসিংহের গফরগাঁও সার্কেল কে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জে সম্প্রতি গণবদলির অভিযোগে বিভিন্ন জেলার বিশেষত জামালপুর জেলাসহ অন্তত ৩০-৩৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যের নাম প্রকাশ পেয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক প্রয়োজনের বাইরে অতিরঞ্জিত রিপোর্টের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়ে এসব বদলি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়, জামালপুর জেলার বাসিন্দা এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জে কর্মরত অনেক পুলিশ সদস্যকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন রেঞ্জ ও ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।

যাদের বদলি করা হয়েছে (জামালপুর জেলার বাসিন্দা): এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এসআই (নিঃ) মোঃ ওসমান গনি, এসআই (নিঃ) মোস্তাফিজুর রহমান, এসআই (নিঃ) মোঃ রবিউল ইসলাম, এসআই (নিঃ) মোঃ আনোয়ার হোসেন, কনস্টেবল মোঃ মাহমুদুর রহমান, এসআই (নিঃ) সালেহুর রহমান, এসআই (নিঃ) ফিরোজ আহম্মেদ, এসআই (নিঃ) হানিফ উদ্দিন, কনস্টেবল মোহাম্মদ ছরওয়ার জাহান, এএসআই (সশস্ত্র) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, কনস্টেবল মোঃ তানভীর আহম্মেদ, কনস্টেবল ওমর ফারুক, কনস্টেবল মোঃ জাহিদুল ইসলাম, কনস্টেবল খোরশেদ আলম, কনস্টেবল মোঃ করিমুজ্জামান, নায়েক সবুজ মিয়া, কনস্টেবল মোঃ রাশেদ আলম, কনস্টেবল মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, কনস্টেবল উমর ফারুক, কনস্টেবল তাজউদ্দিন আহমেদ, কনস্টেবল আব্দুল হামিদ, কনস্টেবল শামীম মিয়া, কনস্টেবল মোঃ রাসেল মাহমুদ, কনস্টেবল মোঃ শফিকুল ইসলাম।

এছাড়া অন্যান্য জেলার যেসব সদস্য বদলির শিকার হয়েছেন: এসআই (নিঃ) ওয়াহিদিল্লাহ সজীব (কিশোরগঞ্জ), এএসআই (নিঃ) শামীম (টাঙ্গাইল), এএসআই (নিঃ) শহিদুল ইসলাম (ময়মনসিংহ), কনস্টেবল জায়সী মাজহার (ময়মনসিংহ), নায়েক জাকির হোসেন (নরসিংদী), কনস্টেবল মোঃ আবিদ হাসান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), নারী কনস্টেবল সৈয়দা পাপিয়া সুলতানা সাথী (নেত্রকোনা), কনস্টেবল সুলতান (শেরপুর), কনস্টেবল জাকির হোসেন (ময়মনসিংহ)।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে সম্প্রতি একযোগে ৩০ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। এসব বদলি প্রকৃত প্রশাসনিক প্রয়োজনের পরিবর্তে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

জামালপুর জেলা ছাত্রদল নেতা সেলিম শাহরিয়ার বলেন, “জামালপুর জেলার কর্মকর্তাদের টার্গেট করে বদলি করা হচ্ছে। এতে তাদের পেশাগত ক্ষতি হচ্ছে।”এদিকে, সংশ্লিষ্টদের দাবি এ ধরনের পদক্ষেপ পুলিশ বাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ তৈরি করছে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ পরিদর্শক বলেন,“থানার ওসি পদায়নে তদবির ও অর্থ লেনদেনের প্রভাব রয়েছে। এতে করে আগের সুবিধাভোগীরাই আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন,“যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অনেককে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে পেশাদার কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে পড়ছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদল-সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত অনেক কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওসি পদায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যোগ্য ও পেশাদার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন