বাংলাদেশ পুলিশের পরিদর্শক মোঃ শামসুল হুদা খানের পদায়ন ও বারবার বদলি নিয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ মহলে এবং তার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৯৩ সালে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি থাকা শামসুল হুদা খান রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ সময় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রমতে, ১৯৯৩ সালের শেষদিকে ক্যাডেট এসআই হিসেবে পুলিশে যোগ দেন শামসুল হুদা খান। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের সাবেক নেতা হওয়ায় দীর্ঘ কর্মজীবনে তাকে থানা, ডিবি বা সিআইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়ন করা হয়নি। এমনকি পদোন্নতির ক্ষেত্রেও তাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৮ সালে তিনি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে পদোন্নতি পান।
গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ময়মনসিংহ রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি ড. মোঃ আশরাফুর রহমান তার বঞ্চনার বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে প্রথমবারের মতো ভালুকা মডেল থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করেন। তবে ডিআইজি বদলি হওয়ার পর থেকেই শামসুল হুদাকে নিয়ে নতুন জটিলতা শুরু হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের সাবেক দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পিআইও রিপোর্টের মাধ্যমে ভুল তথ্য দিয়ে তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করান।
এরপর গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পুলিশ অধিদপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে পুনরায় ঢাকা রেঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ রেঞ্জে বদলি করা হয়। কিন্ত রেঞ্জ ডিআইজি’র আতাউল কিবরিয়ার রোষানলে পড়ে রহস্যজনকভাবে মাত্র ৯ দিনের মাথায় ২৯ এপ্রিল একই কর্মকর্তার স্বাক্ষরে সেই বদলির আদেশ বাতিল করা হয় এমনটাই জানিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা৷ আনোয়ার হোসেন। কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রদল নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, “শামসুল হুদা খানের প্রতি যে অবিচার হচ্ছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এই বৈষম্যের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছি।
ময়মনসিংহ রেঞ্জে গণবদলি ও আঞ্চলিক বৈষম্যের অভিযোগ এদিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জ থেকে সম্প্রতি অন্তত ৩০-৩৫ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশাসনে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক প্রয়োজনের চেয়ে নির্দিষ্ট অঞ্চলকে লক্ষ্য করে এই বদলিগুলো করা হয়েছে।
জামালপুর জেলার বাসিন্দা ও বদলির শিকার উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন:
এসআই জাহাঙ্গীর আলম, ওসমান গনি, মোস্তাফিজুর রহমান, রবিউল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, সালেহুর রহমান, ফিরোজ আহম্মেদ, হানিফ উদ্দিন এবং এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া কনস্টেবল মাহমুদুর রহমান, তানভীর আহম্মেদ, ওমর ফারুকসহ আরও অনেকে এই তালিকায় রয়েছেন।
অন্যান্য জেলার ভুক্তভোগীরা:
কিশোরগঞ্জের এসআই ওয়াহিদিল্লাহ সজীব, টাঙ্গাইলের এএসআই শামীম, ময়মনসিংহের এএসআই শহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাকির হোসেন এবং নেত্রকোনার নারী কনস্টেবল সৈয়দা পাপিয়া সুলতানা সাথী। জামালপুর জেলা ছাত্রদল নেতা সেলিম শাহরিয়ার বলেন, “সুনির্দিষ্টভাবে জামালপুর জেলার কর্মকর্তাদের টার্গেট করে এই বদলি করা হচ্ছে। এতে মাঠপর্যায়ে কর্মরতদের মনোবল ভেঙে পড়ছে।”
প্রশাসনের নীরবতা:
অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই এই গণবদলি করা হয়েছে। তবে এসব গুরুতর অভিযোগ ও বদলি বাতিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শায়লা শারমিন চৌধুরী।।