ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সবকটি পদে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তারা সবাই সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেয়। এতে সভাপতি পদে মো. নূরুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মমরুজুল হাসান জুয়েল বিজয়ী হন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ভোট গনণা শেষে বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট আবু রেজা মো: ফজলুল হক বাবলু। এ সময় বিজয়ী প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকরা ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সমিতির ভবনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ১০৩৮ জন ভোটারের মধ্যে ৮৪০ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এরপর রাতবর ভোট গণমা শেষে শুক্রবার সকালে ঘোষিত ফলাফলে সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল হক ৫৯৭ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত—এনসিপি জোট সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট একেএম আমান উল্লাহ বাদল পেয়েছেন ২১১ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের অ্যাডভোকেট মমরুজুল হাসান জুয়েল ৭৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি নেতা অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম পেয়েছেন ৬০ ভোট। এছাড়াও বিএনপিপন্থী আইনজীবী প্যানেলের বিজয়ী অন্য প্রার্থীরা হলেন— সহসভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মীর এমরান আলী পাপেল ও অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব একেএম মইনুল হোসেন মিলন, সহ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সজীব সরকার রোকন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান (জামান) ও অ্যাডভোকেট রাইসুল ইসলাম, অডিটর পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম সোহাগ, কার্যকরী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার লিপি, অ্যাডভোকেট রিয়াদ মো. সাঈদ, অ্যাডভোকেট রেজাউল কিবরিয়া (সোহাগ মন্ডল), অ্যাডভোকেট মো. শাহীন আলম, অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন খলিল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট সামির আল রশিদ বিপ্লব।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল ফ্যাসিস্টের সহযোগী আখ্যা দিয়ে এ নির্বাচন থেকে ১৬ জনের প্রার্থিতা বাতিলের নোটিশ প্রকাশ করেন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা সমিতির আহ্বায়ক প্রফেসর অ্যাডভোকেট আব্দুল বারি। ওই নোটিশে বলা হয়— নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা ফ্যাসিস্টদের সহযোগীদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য করা হলো। ফলে আওয়ামীপন্থিরা এই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও ভোটা প্রদান করেছেন বেশির ভাগ কর্মী—সমর্থক।

৭৫ বাংলাদেশ ডেস্ক।।