প্রকাশের সময়: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ । ১১:৫৮ অপরাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বদলি-জেল-ফিরে আবারও প্রভাব বিস্তার, বিতর্কে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসের ক্যাশিয়ার

বিল্লাল হোসেন মানিক।।

ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ক্যাশিয়ার ইমরান মেহেদী হাসান আরিফ—একটি নাম, যাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। একটি ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত থাকলেও কার্যালয়ের অভ্যন্তরে তার প্রভাব ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। অনেকের ভাষ্য, কার্যত তিনিই নিয়ন্ত্রণ করছেন অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।

অভিযোগ রয়েছে, তার ইচ্ছার বাইরে কার্যালয়ে তেমন কিছুই ঘটে না। এমনকি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সালের জুলাইয়ে তাকে শাস্তিমূলক বদলি করে মাগুরার শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তবে বদলির পর থেকেই তিনি আবার ময়মনসিংহে ফেরার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন। অভিযোগ আছে, এ লক্ষ্যে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নেন এবং তৎকালীন সরকারের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে বদলির চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর বনানীতে র‌্যাবের হাতে আটক হন এবং দুই মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে পুনরায় ময়মনসিংহে বদলি হন। তবে তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম খান মামলার নিষ্পত্তির কাগজ চেয়ে তার যোগদান স্থগিত রাখেন। পরে ওই সিভিল সার্জন স্ট্যান্ড রিলিজ হলে, দায়িত্ব নেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ। তার দায়িত্ব গ্রহণের দিনই ইমরান মেহেদীর যোগদান কার্যকর হয়।

কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর দাবি, পুনরায় যোগদানের পর থেকেই ইমরান মেহেদী হাসান আরিফ ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। নতুন ক্লিনিকের লাইসেন্স প্রদান, ফিটনেস, পুরোনো লাইসেন্স নবায়ন, কর্মচারীদের বদলি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিসহ নানা বিষয়ে তার প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ।

জানা যায়, গত সাত মাসে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অন্তত ৩২ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ, এসব বদলি অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ময়মনসিংহ বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের অফিস সহায়ক মিজানুর রহমানকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে অবনমন করার ঘটনাও এ সময়েই ঘটে। তিনি দাবি করেন, তার কোনো দোষ ছিল না।

এদিকে, সম্প্রতি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আশপাশে ইমরান মেহেদীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উল্লেখ করে পোস্টার সাঁটানো হয়। পরে দ্রুত সেগুলো অপসারণ করা হয়। পোস্টারে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনকে ঘুষ দিয়ে পুনরায় যোগদানের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

আরও অভিযোগ রয়েছে, রাজধানী বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এ কাজে আনিসুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে ব্যবহার করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ দায়ের করে পরে সমাধানের কথা বলে অর্থ দাবি করে মেহেদী হাসান আরিফ। তার হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে আনিসুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ সুরক্ষা আইনসহ তিনটি মামলা রয়েছে। আজ ২২ এপ্রিল আনিসুর রহমান ও মেহেদী হাসান আরিফের নামে দুটি জিডি করা হয়। তাদের নামে সাইবার সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন ধারায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ বলেন, তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এ বিষয়ে তিনি জিডি করেছেন। বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাদেরই বদলি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা জানান, এমরান মেহেদীর বদলির আদেশ মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব তাদের নয়।
অভিযোগ-প্রত্যাখ্যানের মধ্যেই ময়মনসিংহের স্বাস্থ্যখাতে এ ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন