বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে দ্রুত বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে দুটি সংগঠন।
শনিবার ১৮ এপ্রিল দুপুর ১২টার সময় ময়মনসিংহ নগরীর গ্রীণ পয়েন্ট ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম ময়মনসিংহ এবং অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন৷ এ লক্ষ্যে সরকারকে ১৩ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে জ্বালানি আমদানি ব্যহত হচ্ছে ৷
বক্তারা বলেন, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেওয়ার বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচপাম্প এবং বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
লিখিত সুপারিশে বলা হয়, জ্বালানি খাতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর-প্রণোদনা দেওয়া, দ্রুত রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদনের পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু এবং সৌরচালিত সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়বে। তাই নতুন কয়লাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সংকটকে একটি সুযোগ হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশ চাইলে জ্বালানি খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শনিবার ১৮ এপ্রিল দুপুর ১২টার সময় ময়মনসিংহ নগরীর গ্রীণ পয়েন্ট ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম ময়মনসিংহ এবং অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্য বক্তারাও একই মত প্রকাশ করে বলেন, এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

৭৫ বাংলাদেশ ডেস্ক।।