সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে র্যাব কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করে, কক্সবাজারে মানবপাচারকারী চক্রের ০২ জনকে, খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজনকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ, চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী হামলায় যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অন্যতম আসামি সবুজকে গ্রেফতার, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত মাদক সম্মাট ‘কাইল্লা রক্সি এবং চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপকূলের মাছ ধরার ট্রলার থেকে ৫ লক্ষ পিস ইয়াবা সহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে হত্যাকারী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ, মাদক দ্রব্য উদ্ধার, ছিনতাইকারী, অপহরণ, প্রতারক ও বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর এবং আলোচিত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কাওরান বাজার, র্যাব মিডিয়া সেন্টারে পরিচালক, লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন, দেশের অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ন্যায় র্যাব ফোর্সেসও দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে র্যাবের গুরুত্বপূর্ণ অভিযান সমূহ হচ্ছে :
চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী হামলায় যবুকের কব্জি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অন্যতম আসামি মোঃ সবুজ’কে গত ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে র্যাব-৭ ও র্যাব-৯ এর একটি আভিযানিক দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সদর থানায় ০১টি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত মাদক কারবারি মাহবুবুর রহমান ওরফে ‘কাইল্লা রক্সি’ কে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁও, সিদ্ধিরগঞ্জ ও গজারিয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় মোট ২৮টি মামলা ও জিডির রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন এলাকা থেকে মানব পাচারকারী চক্রের ২ জন সদস্য ১। নেয়ামত উল্লাহ এবং ২। শাহ আলমকে গ্রেফতারসহ অপহরণের শিকার ০৪ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র্যাব।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রপথ ব্যবহার করে একটি বড় মাদকের চালান মিয়ানমার সীমান্ত থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। পরবর্তীতে একটি মাছ ধরার নৌকাতে অভিযান পরিচালনা করে ৫ লক্ষ পিস ইয়াবাসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ৯ জনের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশী এবং ৫ জন রোহিঙ্গা। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে এটিই সর্বোচ্চ ইয়াবা জব্দের ঘটনা। এছাড়াও কক্সবাজারের টেশনাফ থানায় গ্রেফতারকৃত আজম উল্লাহ এর বিরুদ্ধে ০২ টি মামলা, ফারুক এর বিরুদ্ধে ০১ টি মাদক মামলা এবং সৈয়দ আলম (রোহিঙ্গা) এর বিরুদ্ধে ০২ টি মাদক মামলা রয়েছে। ভবিষ্যতেও র্যাবের মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে।
এছাড়াও গত ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মোঃ সুজন সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির তথ্যমতে তার বসতবাড়ির থেকে ০১টি শটগান, ০১টি ওয়ান শুটারগান, ০৫ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর একাধিক থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র আইনে মামলাসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে।
এছাড়াও গত ০৮ এপ্রিল ২০২৬ হতে ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সর্বমোট ৫১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার করে অবৈধভারে ৪,৬৮,৪৩৯ লিটার ভোজ্য তেল মজুদ রাখার দায়ে ১৪,২৫,০০০.০০ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ৫০ হাজারের অধিক ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়।*
আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, মানবাধিকার রক্ষা, সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, অপরাধ চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করা এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আশার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে র্যাব আরও দৃঢ়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে র্যাব ফোর্সেস।

সেলিম মিয়া।।