প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ । ৪:৫৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভালুকায় ভূমি অফিসের ৪ কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তের জোরালো দাবী উঠেছে

স্টাফ রিপোর্টার।।

ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত ক্ষমতাধর এই চার কর্মকর্তার কাছে রীতিমতো জিম্মি সেবাগ্রহীতারা। সার্ভেয়ার ও ভূমি অফিসের উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা,
সার্টিফিকেট পেশকার, মিউটেশন সহকারীদের নানান অনিয়ম দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্তের জোরালো দাবী উঠেছে সেবাগ্রহীতাদের মাঝে।

গত ১২ই মার্চ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম, উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন,সার্টিফিকেট পেশকার খাইরুল ইসলাম, মিউটেশন সহকারী সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি উপজেলাব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি প্রকাশ করায় প্রতিবেদকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন। তাদের দাবী উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত ক্ষমতাধর এই চার কর্মকর্তার কাছে রীতিমতো জিম্মি সেবাগ্রহীতারা। সার্ভেয়ার ও ভূমি অফিসের উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তার নানান অনিয়ম ক্ষমতার অপব্যবহার যেনো সেবা গ্রহীতাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

সংবাদ প্রকাশের পর অফিসের সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম, উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন,
সার্টিফিকেট পেশকার খাইরুল ইসলাম, মিউটেশন সহকারী সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য উঠে আসছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম নামজারি প্রতিবেদন, আদালতের নির্দেশে দখল প্রতিবেদন, পুলিশের প্রতিবেদন দেয়ার ক্ষেত্রে কাগজ পত্রে মালিক যেই হউক না কেন টাকার বিনিময়ে ইচ্ছামত মনগড়া প্রতিবেদন দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার কাজ।

অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট পেশকার খাইরুল ইসলাম বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী এসব অভিযোগ করেছেন, সার্টিফিকেট মামলা সংক্রান্ত নথি নিষ্পত্তি, কাগজপত্র দ্রুত প্রস্তুত করা ও অনুকূলে আদেশ পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে খাইরুল ইসলাম নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ দাবি করে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অর্থ না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয় কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, “ভূমি অফিসে সার্টিফিকেট সংক্রান্ত কাজে দালাল নির্ভরতা বাড়ছে। সার্টিফিকেট পেশকারকে টাকা না দিলে কাজ এগোয় না এমন অভিযোগ সেবা গ্রহীতাদের”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সচেতন মহল। ১১৭০ টাকার একটি মিউটেশনের সরকারি চার্জ কিভাবে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা হয়ে যায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতেও প্রশাসনের কাছে জোর দাবী উঠেছে।

কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, “ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার, মিউটেশন সহকারী,উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সার্টিফিকেট পেশকারের কাছে যেতে আর সার্টিফিকেট সংক্রান্ত যে কোন কাজে দালাল নির্ভরতা বাড়ছে। দালাল ছাড়া তাদের লাগাম পাওয়া বিশাল কষ্টকর। দালাল ছাড়া তাদের কাছে গেলেও তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণে অনেকে সেবা না পেয়েই ফিরে আসেন এমন অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন