রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে দিনের আলোতেই ছিনতাইকারীর টানে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন এক তরুণ গৃহবধূ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তা আক্তার (২১) গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে স্বজনদের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে দুপুর ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুক্তার স্বামী লিমন হোসেন গণমাধ্যম কে জানান, তারা দক্ষিণখান ফায়দাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত, আর মুক্তা ছিলেন গৃহিণী। সকালে ঈদের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে মিরপুর পল্লবীর একটি মার্কেটে যাচ্ছিলেন মুক্তা। রিকশার অপর যাত্রীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকার থেকে হাত বাড়িয়ে মুক্তার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেওয়া হয়। এতে তিনি রিকশা থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে মারাত্মক আহত হন।
লিমন হোসেন বলেন, ‘পথচারী ও রিকশার অপর যাত্রী তার স্ত্রীকে প্রথমে উত্তরা আথুনিক হাসপাতালে নিয়ে যায় আহত মুক্তাকে। খবর পেয়ে ওই হাসপাতালে গিয়ে তার স্ত্রীকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান তিনি। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা সেবা বিলম্বিত হওয়ায় টঙ্গী আহসানউল্লাহ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পঙ্গু হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও জানান, মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল জলিল। প্রায় দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল এবং এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, দুপুরের দিকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ওই গৃহবধূকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মাথা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।

স্টাফ রিপোর্টার।।