ময়মনসিংহ নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডের নাটকঘর লেনে ১০ বছরের শিশু ধর্ষণকারী কাজল চক্রবর্তী (৫৫) এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবীতে সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) বেলা ১১ টায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচী চলমান থাকে। বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণীপেশার মানুষ স্বত:স্ফূর্তভাবে শিশু ধর্ষণবিরোধী এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সমাজ আজ বিকৃত মানসিকতা সয়লাভ। অহরহ ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। যেন হিংস্র নেকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো দেশ, সমাজ। তারই প্রেক্ষাপটে ময়মনসিংহ নাটকঘর লেনে কাজল চক্রবর্তী কর্তৃক ১০ বছরের শিশুে ধর্ষিত হয়েছে। মানুষরূপী এসব হিংস্র নেকড়েদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা অজ জরুরী হয়ে পড়েছে সুস্থ সমাজের স্বার্থে। যে সমাজে রাষ্ট্র কন্যাশিশু নিরাপদ নয় সে সমাজ রাষ্ট্র সভ্য নয। চলমান রোজার মাসেও প্রতিদিন ঘটছে ধর্ষণ বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ। দিনদিন সমাজ, রাষ্ট্র অসভ্যতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এদেশ ধর্ষণের উপত্যকা হয়ে যাক, তা আমরা চাই না।
ময়মনসিংহ নগরীর নাটকঘরলেনে কাজল চক্রবর্তী (৫৫) কর্তৃক শিশু ধর্ষণ করার নির্মম, বর্বর, পাশবিক ঘটনাটির বিচার দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ১০ বছর বয়সী শিশু আজ হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। এমন বর্বরচিত্র আমরা মেনে নিতে পারি না।
সমাজকর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দেশে আইন আছে কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। ফলে , বিচারহীনতার কারণে অপরাধ বেড়েই চলছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর ধারা ৯’তে স্পষ্ট করে বলা আছে, ‘যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।’এই স্পষ্ট আইন থাকার সত্ত্বেও কেন ধর্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে না? সে প্রশ্ন আজ জাতির সামনে। ধর্ষণের বিচার কার্যক্রম জটিল না করে সহজকরণ ও দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। বিদ্যমান আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে ধর্ষণজনিত অপরাধ অনেকটা কমে আসবে।
এছাড়া সরকারের পাশাপাশি ধর্ষণের ব্যাপারে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সচেতন মানুষদেরকে সমাজে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির করতে হবে। এ ব্যাপারে সকল বিবেক সম্পন্ন মানুষদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
সমাজকর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ইমতিয়াজ আহমেদের সার্বিক পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা কমল সরকার, শ্রমিক দল নেত্রী শান্তনা সরকার শেলী, মহানগর যু্বদল নেতা কে এম জব্বার, স্থানীয় ওয়ার্ডরবিএনপি নেতা এ এইচ এম আরমান, সাংস্কৃতিক সংগঠক নাজমুল হাসান রাজু খান প্রমূখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক।।