ময়মনসিংহ শহরে মাদক বিক্রি ও সেবনের বিস্তার এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। উদ্বেগের বিষয় হলো এই চক্রে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও তরুণরা, যা সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে।
সম্প্রতি কৃষ্ণপুর এলাকায় শাহিন নামের তরুন একজন মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সেবনকারীদের মধ্যে টাকা-পয়সা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিন মাস আগে জেল থেকে বের হওয়া এক ব্যক্তি ২৫ ফেব্রুয়ারি মাদক কিনতে গিয়ে সহসেবনকারীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, মাদক শুধু ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করছে না আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেও অস্থিতিশীল করছে।
কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক একটি নৃশংস ঘটনায়। মাদকের টাকা জোগাড় করতে কিশোর গ্যাংয়ের অল্পবয়সী সদস্যরা আনন্দ মোহন কলেজ-এর ছাত্র শাওনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এমন অভিযোগ উঠেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র, যে হওয়ার কথা ছিল দেশের ভবিষ্যৎ সম্পদ, সে পরিণত হলো কিশোর অপরাধের শিকার। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, সমগ্র নগরবাসীর হৃদয়ে গভীর শোক ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।
কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি ও মাদকাসক্তি এখন পরস্পরকে শক্তি জোগাচ্ছে। অল্প বয়সেই অপরাধে জড়িয়ে পড়া এসব তরুণ সমাজের জন্য ভয়ংকর বার্তা বহন করছে। তারা একদিকে মাদকের নেশায় আসক্ত, অন্যদিকে অপরাধচক্রের হাতিয়ার হয়ে উঠছে। ফলে খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক বিস্তারের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী অসাধু চক্রের সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতার ঘাটতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চললেও তা আরও জোরদার ও ধারাবাহিক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, পরিবারভিত্তিক নজরদারি এবং কিশোরদের জন্য ইতিবাচক বিকল্প কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষ মহল আশা করছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি জোরদার করবে। শুধু গ্রেফতার বা শাস্তি নয়,পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং এবং কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ নিতে হবে।
আজ যদি আমরা কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিই, তবে আগামী প্রজন্ম আরও বড় বিপদের মুখে পড়বে। ময়মনসিংহকে মাদক ও কিশোর অপরাধমুক্ত করতে এখনই সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই সময়ের দাবি।

নাজমুল হাসান।।।।