ময়মনসিংহ জেলায় ৩০৯টি ইটভাটার মধ্যে ২৭৫টিই অনুমোদনহীন অবৈধ, এ যেন প্রকাশ্য আইনের শাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ।
অভিযোগ উঠেছে, এসব অবৈধ ভাটা থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে বছরের পর বছর ধরে ‘নিরাপদ’ রাখা হয়েছে। আঙুল উঠেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ কার্যালয়ের উপ পরিচালক সাইফুল ইসলামের দিকে স্থানীয়দের ভাষ্য, আইন নয়, এখানে চলে ‘লেনদেনের শাসন’।
অভিযোগ রয়েছে, ভাটাটির কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই; তবু বন্ধ হয়নি কার্যক্রম। বরং মাঝেমধ্যে ‘লোকদেখানো’ অভিযান চালিয়ে ছবি তোলা আর সতর্কবার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে প্রশাসনিক তৎপরতা।
প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপে উপ পরিচালক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবে রূপ পায়নি। পরে মুঠোফোনে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে বলেছিলাম ব্যবস্থা নেব, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের কারণে সম্ভব হয়ে ওঠেনি।”
অন্যদিকে গৌরীপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তর এর ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়, পরিবেশ অধিদপ্তর আসার কথা, আসলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহে অবৈধ ইটভাটার দাপটে ফসলি জমি নষ্ট, বায়ুদূষণ বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির পরিবেশ বিপর্যস্ত। কত টাকায় কেনা হয় নীরবতা? আইন প্রয়োগকারী দপ্তর যদি নিজেই অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত, অভিযুক্তদের জবাবদিহি এবং বিদ্যালয়ের সন্নিকটে থাকা অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। কঠোর পদক্ষেপে ফিরবে কি আইনের মর্যাদা, নাকি ঘুষের আগুনেই পুড়বে পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

নিজস্ব প্রতিবেদক।।