ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক রঞ্জিত কুমার কর্মকার স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক ফারজানা পারভিনসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর, ত্রিশাল, হালুয়াঘাট ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় বেকার যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের নামে বরাদ্দকৃত প্রায় ১৮০ কোটি টাকা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, বেনামী প্রশিক্ষক ও ভুয়া প্রশিক্ষণার্থীর নাম ব্যবহার করে ভূয়া বিল ও ভাউচার প্রস্তুত করা হয় এবং সেই মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার নিকট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও রেকর্ডের সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সংক্রান্ত প্রকল্পের শুরু ও শেষের তারিখ, আবেদন ও প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা, প্রশিক্ষণ ক্লাসের বিস্তারিত সময়সূচি, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের সম্মানী বিতরণের মাস্টাররোল, প্রকল্পের ব্যাংক হিসাব বিবরণী, ক্যাশবই, বরাদ্দপত্র এবং আইবাস+ এ ব্যয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি সরবরাহ করতে হবে।
ময়মনসিংহে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি প্রকল্পে সুবিধাভোগী তালিকায় নিষিদ্ধ ‘ছাত্রলীগ’ নেতাকর্মীর নাম থাকায় ১৮০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ ইতিমধ্যেই ১৭টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক উপ-পরিচালক ফারজানা পারভিন এবং ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের নেতা মো. খাইরুল ইসলাম-এর স্ত্রী।
জেলায় অন্তত ১২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি হরিলুটের সাথে জড়িত থাকার কথা বলা হচ্ছে।
দুদকের ময়মনসিংহ জেলা শাখার রঞ্জিত কুমার কর্মকার সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তথ্য ও রেকর্ড সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

৭৫ বাংলাদেশ ডেস্ক।।