ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা-১০ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলীয় বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যায় গফরগাঁও পৌর শহরের ইসলামিয়া স্কুলের সামনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
আহতদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সোহাগ, রবিন, জসিম, মোঃ ফরহাদ, দেলোয়ার হোসেন, মহসিন, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ আরও অনেক নেতাকর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকেরা ধানেরশীষ প্রতিকের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে ঘটনাস্থল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। একই সময় দলীয় বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহ ওই এলাকায় প্রবেশ করলে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় অতপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে ।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও ছাত্রদলের অফিসে অগ্নিসংযোগ করাসহ আরো কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল আল মামুন বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয়েছে। এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়ে বলেনএই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “প্রতীক পাওয়ার পর আমার সমর্থকেরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছে। আমি নিজে গাড়িতে ছিলাম। আমরা কোনো হামলায় জড়িত নই।
এ ঘটনায় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবি সিদ্দিকুর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে দলীয় অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তিনি শিল্প ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলার আসামি হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন পাননি। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে দুদকের মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “মামলা রাজনৈতিক বাস্তবতায় হতেই পারে। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার।
এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি।।