প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৯:৫৯ অপরাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে হাড়কাঁপানো শীত: গভীর রাতে অসহায়দের দ্বারে দ্বারে ইউএনও

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক,শেরপুর প্রতিনিধি।।

গারো পাহাড়ের পাদদেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার শীতার্ত মানুষ। টানা ১৫ দিনের কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন যখন স্থবির, ঠিক তখনই মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।

তীব্র কুয়াশা ও হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাতে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম, এতিমখানা ও মাদ্রাসাসহ অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত শীতার্ত মানুষকে শীতবস্ত্র (কম্বল) দিচ্ছেন তিনি। জরাজীর্ণ ঘরে শুয়ে থাকা শতাধিক অসহায় মানুষের গায়ে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন এই কর্মকর্তা। সরেজমিনে দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় যখন দৃষ্টিসীমা ক্ষীণ হয়ে আসছিল, তখন ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল খুঁজে খুঁজে বের করেন প্রকৃত সম্বলহীন মানুষগুলোকে। শীত নিবারণের পর্যাপ্ত বস্ত্রহীন এসব মানুষের জন্য একটি কম্বলই এখন বেঁচে থাকার অবলম্বন।

ইউএনও’র এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগীরা। তারা বলেন, এত রাতে প্রশাসনের একজন বড় কর্মকর্তা আমাদের মতো মানুষের খবর নেবেন, এটা কল্পনাও করিনি। এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়বদ্ধতা। এই তীব্র শীতে কোনো মানুষ যেন পর্যাপ্ত বস্ত্রের অভাবে কষ্ট না পায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এমন সরাসরি উপস্থিতি অসহায় মানুষের মনে সাহসের সঞ্চার করেছে। একইসাথে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন