বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় পরিচালিত আইডিইএ প্রকল্পের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের চাকরি আত্মীকরণ দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় থাকায় কর্মবিরতিতে গেছেন প্রকল্পভুক্ত ডাটা এন্ট্রি সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ জেলার ১৩ উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার নিবন্ধন, তথ্য সংশোধন, স্মার্টকার্ড বিতরণসহ এনআইডি–সংক্রান্ত সব কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
কর্মবিরতি থাকায় সেবা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ চরমে। সকালে অফিসের সামনে ভিড় দেখা গেলেও অফিসের টেবিল ছিল সম্পূর্ণ অচল। কর্মকর্তারা অফিসে নেই, ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাকরি স্থায়ীকরণের এক দফা দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন।
কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা–কর্মচারীরা জানান, ২০০৭–০৮ সালে পিইআরপি ও ফিনডিক প্রকল্পের আওতায় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ গঠনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এরপর থেকে এনআইডি সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন ভোটার নিবন্ধন, তথ্য সংশোধন, স্মার্টকার্ড বিতরণসহ সব প্রযুক্তিনির্ভর কাজ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন তারা। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়ায় তারা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মহি উদ্দিন বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে দক্ষতার সাথে কাজ করছি। এখন নতুন জনবল নিয়োগ দিলে পুরো ব্যবস্থাপনাই আবার নতুন করে সাজাতে হবে, যা অকার্যকর এবং সেবায় বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।”
২০২৪ সালে থেকে আশ্বাস দিলেও এক বছরের বেশি সময় পার হয়েছে—চাকরি আত্মীকরণ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তারা। তাদের দাবি—এভাবে প্রকল্প শেষ হলে বেশিরভাগ কর্মচারী চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে বেকার হয়ে যাবেন।
এদিকে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভালুকা উপজেলার ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধনের জন্য আসা মো. ইমন বলেন, “জরুরি কাজে এসেছি। কার্ড ঠিক না হলে চাকরিও ঝুঁকিতে পড়বে। কিন্তু কর্মবিরতির কারণে কিছুই করতে পারছি না।”
প্রবাস থেকে দেশে ছুটিতে আসা আবু নাঈম বলেন, “পাসপোর্ট রিনিউ করতে এনআইডি খুব জরুরি। কিন্তু শুনলাম কর্মকর্তারা কর্মবিরতিতে—আমরা বিপাকে পড়েছি।”
ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বালিয়ান থেকে আসা মকবুল হোসেন (৮০) বলেন, আমি বয়স্ক ভাভাতার কার্ড করতে নিজের নামে সিম কিনতে যাই কিন্তু আমার ফিঙ্গার কাজ করে না, তাই ফিঙ্গার দিতে আসছি তারা আন্দোলনে থাকায় আমি ফিঙ্গার না দিয়ে চলে যাচ্ছি।
ময়মনসিংহ জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মোত্তাসিম বলেন, কর্মকর্তা–কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে থাকায় সাময়িকভাবে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে এটি সচিবালয়ের বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক।।