জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্যসহ ৩৯ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সাবেক উচ্চপদস্থ আমলা ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা।
রোববার (২০ জুলাই) সকালে তাদের প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ মামলাগুলোর শুনানি করছে।
এর আগে, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল ভারতে পলাতক অবস্থায় থাকা কয়েকজন অভিযুক্তসহ মোট ৪৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল। সেদিনও আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান ও জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ১৬ জনকে আদালতে তোলা হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন—সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামরুল ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম।
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলি, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের অভিযোগে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালানোর নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। ৫ আগস্ট, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণহত্যার বিচার শুরুর ঘোষণা দেয়।

৭৫ বাংলাদেশ ডেস্ক।।