তরুণদের চাকরির জন্য ঢাকা কিংবা বিদেশমুখী হতে হবে না- ময়মনসিংহে প্রতিমন্ত্রী পলক

প্রকাশিত: ২:০০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২২

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ময়মনসিংহ হাই-টেক পার্ক এই এলাকার তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ঠিকানা হবে। এটি চালু হলে এলাকার তরুণদের চাকরির জন্য ঢাকা কিংবা বিদেশমুখী হতে হবে না। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলা অগ্রসরমান প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার লক্ষ্যে দেশের ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞাননির্ভর, উন্নত অর্থনীতির স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বুধবার (২২ জুন) বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ নগরীর রহমতপুর কিসমত এলাকায় এ হাই-টেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উদ্ভোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব শরীফ আহমেদ,এমপি। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন-প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের উন্নতির প্রশংসা ইতিমধ্যে সারা বিশ্ব থেকেই আসছে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ ভালো করছে এবং যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই উইটসা ঢাকাকে বেছে নিয়েছে বিশ্ব সম্মেলন করার জন্য। বাংলাদেশের ভিশন ২০৪১ রয়েছে, যার মাধ্যমে আইসিটিতে এগিয়ে চলেছে। যেকোনো দেশের সফলতার মূল বিষয় হলো নেতৃত্ব। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের তা আছে।

এসময় প্রতিমন্ত্রী পলক আরো বলেন-ভারত সরকারের অর্থায়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অধীন জেলা পর্যায়ে হাই-টেক (আইটি) পার্ক স্থাপন প্রকল্পের আওতায ময়মনসিংহে এ পার্কটি ৭ একর জমির ওপর ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। এতে প্রতি তলায ১৫ হাজার বর্গফুট বিশিষ্ট সাত তলা ভবন এবং সিনেপ্লেক্স নির্মিত হবে।

তিনি বলেন-বর্তমানে দেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের আয় ১০০ কোটি ডলারেরও বেশী। আমরা প্রযুক্তির বিকেন্দ্রীকরণ করছি। এ জন্য দেশব্যাপী ২৮টি হাইটেক পার্ক করা হয়েছে। এখানে আমাদের সবার একটাই ইচ্ছা, তা হলো অর্থনৈতিক-সামাজিক উন্নয়নে প্রযুক্তি ব্যবহার করা। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এত বড় অর্জন সেখানে প্রদর্শন করা হবে। স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীর বছরে এ আয়োজন দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে। এতে ৮৩ দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।’

এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম মনিরা সুলতানা এমপি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. বিকর্ণ কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, বিভাগীয় কমিশনার মো: শফিকুর রেজা বিশ্বাস, ডিআইজি, ময়মনসিংহ রেন্জ মো: শাহ আবিদ হোসেন, বিপিএম (বার), জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে-পার্কটি চালু হলে প্রতিবছর ১ হাজার তরুণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও ৩ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে পার্কের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।