আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পরিচিতি ও সম্মান বৃদ্ধিতে খেলাধুলার বিকল্প নেই- তারাকান্দায় ইউএনও

প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২২

আরিফ রববানী, ময়মনসিংহ।।
তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত বলেছেন-খেলাধুলার মূল কথা হলো প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করা। প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরী করে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্ব। খেলাধুলার সঙ্গে স্বাস্থ্য ও মনের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সুস্থ দেহ মানেই সুস্থ মন। খেলাধুলা জীবনকে করে সুন্দর, পরিশীলিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের পরিচিতি ও সম্মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা অতুলনীয়’।

শুক্রবার (১৩মে) বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ (অনুর্ধ্ব-১৭) বালক ফুটবল টুর্নামেন্ট এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তাধারায় সব সময়ই ছিলো কিভাবে দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেয়া যায়। কারণ তিনি নিজেও একজন সেরা ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন।

তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী খেলায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড.ফজলুল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালমা আক্তার কাকন, গালাগাও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান তালুকদার , ঢাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইকরামুল হক তালুকদার, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক শাওন কিশোর ধর , সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক কাজল সরকার, ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসান মাজাহারুল, মুক্তিযোদ্ধা দুলাল চন্দ্র প্রমূখ।।

ইউএনও মিজাবে রহমত আরো বলেন,‘খেলাধুলা দেশের জন্য একান্তভাবে প্রয়োজন। যতবেশি খেলাধুলার সঙ্গে আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে সম্পৃক্ত রাখতে পারবো তারা ততবেশী সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। চিন্তা-চেতনায়, মন-মননে অনেক বেশি শক্তিশালী, অনেক বেশি উন্নত হবে তারা।’

খেলাধুলার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে ইউএনও বলেন,‘খেলা যেমন মানুষের মনকে সুন্দর রাখে, তেমনি জীবনের চলার পথটা করে দেয় সুন্দর। সুস্থ দেহ থাকলে, একটা সুস্থ মনও থাকবে। এই মন আর এদিক-ওদিক যাবে না। এখন সমাজে একটা সাংঘাতিক অসুস্থতা দেখা যাচ্ছে। এই যেমন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকাসক্তি-মানুষের মন-মানসিকতা একেবারেই নষ্ট করে দিচ্ছে। সমাজকে কলুষিত করে দিচ্ছে। এখান থেকে আমাদের যুব-সমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

তিনি বলেন,‘ খেলাধুলায় সাফল্য অর্জন করতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিকল্পনা। এক্ষেত্রে ক্রীড়া সংগঠকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাংগঠনিক ভিত না থাকলে ক্রীড়াবিদদের প্রতিভার যেমন বিকাশ হয়ন না, তেমনিভাবে নতুন নতুন খেলোয়াড়ও উঠে আসে না। সরকার প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচীর মাধ্যমে তৃর্ণমূল পর্যায় হতে খেলোয়াড় সংগ্রহ এবং নিয়মিত, নিবিড়, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরী করছে।

এসময় অন্যান্যদের মাঝে স্থানীয় রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী খেলায় গালাগাও ইউনিয়ন বনাম ঢাকুয়া ইউনিয়নের মধ্যে গালাগাও ইউনিয়ন ঢাকুয়া ইউনিয়নকে টাইব্রেকারে হারিয়ে জয় লাভ করে।