নাটোরে ইউএনও’র গাড়িচাপায় প্রাণ গেলো সংবাদকর্মীর

প্রকাশিত: ১:১৬ পূর্বাহ্ণ, মে ১০, ২০২২

রিয়াজ হোসেন (লিটু), নাটোর।।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিংগইন ফিলিং স্টেশনের সামনে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি চাপায় প্রাণ গেলো সোহেল আহমেদ জীবন (৩০) নামে এক সংবাদকর্মীর। সোমবার (৯ মে) দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত সোহেল আহমেদ জীবন (৩০) সিংড়া পৌর এলাকার বালোয়া-বাসোয়া এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি বগুড়ার ‘দৈনিক দুরন্ত সংবাদ’র সিংড়া উপজেলা প্রতিনিধি এবং বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার শিক্ষক।

সিংড়া থানার ওসি নুর এ আলম সিদ্দিকী এবং নিহতর ভাই আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজ বাসা থেকে ওই স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাচ্ছিলেন সোহেল। পথে নিংগইন ফিলিং স্টেশনের সামনে নলডাঙ্গা ইউএনওর গাড়িটি তার মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রামেক হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ও নিহতর পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই ইউএনওর স্ত্রী মানসি দত্ত মৌমিতা সিংড়ার গোল-ই-আফরোজ সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অন্য দিনের মতো ওই গাড়িতে কলেজে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুখময় সরকার দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, তার স্ত্রী সকাল ৯টায় পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কলেজে যায়। গাড়িচালক তাকে অফিসে পৌঁছে দিয়ে গাড়ির তেল কিনতে সিংড়া যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই সময় গাড়িতে চালক ছাড়া কেউ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর পরই তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওই সময় ঘটনাস্থলে গাড়িচালক ছাড়া আর কাউকে দেখেননি স্থানীয়রা। তবে তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান ওসি।

সিংড়া মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি রাজু আহমেদ দুর্ঘটনায় নিহত সংবাদকর্মীর আত্মার মাগফিরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিহতর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।