রংপুরে দর্শনীয় স্থানগুলোতে মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মত

প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২২

আব্দুল্লাহ আল আমিন।।
দেশে চলছে পবিত্র ঈদের ছুটি। ঈদের ছুটিতে রংপুরের দর্শনীয় স্থান, বিনোদন কেন্দ্র ও শিশু পার্কগুলোতে মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মত। ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের ভিড়ে জাকজমকপূর্ণ হয়ে উঠেছে দর্শনীয় স্থানগুলো। ঈদুল ফিতরের দিন সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত রংপুর নগীর নিসবেতগঞ্জ ঘাঘট নদী, রংপুর টাউন হল চত্বর, ভিন্ন জগৎ, কাউনিয়ার শতবর্ষী তিস্তা রেলওয়ে সেতু, গঙ্গাচড়া মহিপুর শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু, সুরভী উদ্যান, চিকলি বিল ও ওয়াটার পার্কসসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানজুড়ে ছিল মানুষের ঢল।

করোনার কারণে দীর্ঘ ২ বছর প্রায় সময় বন্ধ ছিল বিনোদনকেন্দ্রগুলো। এ সংকট ও দুঃসময় পেরিয়ে এবারে ঈদের পর ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের ভিড়ে রঙিন হয়ে উঠেছে দর্শনীয় স্থানগুলো। ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে প্রচুর মানুষ বেরিয়েছে দর্শনীয় স্থানের উদ্দেশ্যে। ফলে এই সব দর্শনীয় স্থান, বিনোদন কেন্দ্র ও শিশু পার্কগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। টিকিট কেটেও প্রবেশ করতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এরপর স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরি কোনোটাই সম্ভব হচ্ছে না তারপরও মানুষের ভিড় লক্ষণীয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর নগরীর চিড়িয়াখানা, শিশু পার্ক, চিকলী বিল, ওয়াটার পার্ক, সুরভী উদ্যান, নিসবেতগঞ্জ ঘাঘট নদী, রংপুর টাউন হল চত্বর, তাজহাট জমিদার বাড়ি, কাউনিয়ার শতবর্ষী তিস্তা রেলওয়ে সেতু, তিস্তা পার্ক, গঙ্গাচড়া মহিপুর শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু পয়েন্টজুড়ে মানুষের ঢল। এসব স্থানে যেতে দীর্ঘ যানজটে পড়েছেন বিনোদনপ্রেমীরা। চিড়িয়াখানা, চিকলী বিল ও ওয়াটার পার্ক একই রাস্তায় হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। এসব সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশকে বেশ হিমসিম খেতে হচ্ছে।

চিড়িয়াখানায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার বাবু মিয়া বলেন, ঈদের ছুটি কম, তাই প্রথম দিনেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। শিশু-কিশোররা বেশ আনন্দ করছে। যদিও পা ফেলবার কোনো সুযোগ নেই। এত বেশি ভিড় হবে জানলে আসতাম না।

শিশু পার্কে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে এসেছেন হাসেন আলী, টিকিট কেটে শিশু পার্কে ঢুকতে প্রায় ১ ঘন্টা লেগেছে। প্রতিটি রাইডে এতো ভিড়, এখনও কোনো রাইডে ওঠা সম্ভব হয়নি। হয়তো হবেও না আর ওঠা। বের হবো কিভাবে সেই চিন্তাই করছি।

সুরভি উদ্যানে কথা হয় মিতু, রিংকু, সীমা, আকতার, বারবী, মাহিরসহ কয়েকজনের সাথে। বেশ আনন্দ করছে তারা। যে যার মতো রাইডে উঠছে। কেউ দুলছে, স্পাইডার ক্রেডল, মিউজিক ফাইটার প্লেন, ডেঞ্জার রোলার রোডে। এভাবেই আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে।

তিস্তা নদীবেষ্টিত মহিপুর ঘাটে রংপুর-লালমনিরহাট জেলার মানুষের পারাপারে নির্মিত গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু। এই সেতুর নিচের একপ্রাক্সে পানিতে ছুটে বেড়াচ্ছে নৌকা ও ছোট ছোট স্পিডবোট, আরেকপ্রান্তে বিশাল বালুচর। মনোরম পরিবেশে নদীর বুকে পাল তোলা নৌকায় উঠে ঘুরছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ ধু ধু বালুচরে প্রিয়জনের হাত ধরে হেঁটে হেঁটে গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত নিসবেতগঞ্জের ঘাঘট নদীর তীরে রক্ত গৌরব চত্বর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রয়াস সেনা বিনোদন পার্ক ও ঘাঘট নদীর অংশ বিশেষসহ পার্শ্ববর্তী বিস্তৃত নিচু এলাকায় সবুজের সাজানো কোলাহল মুক্ত পরিবেশে মানুষের ঢল নেমেছে।নগরীর এসব বিনোদনকেন্দ্র ছাড়াও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় মোড়, কারমাইকেল কলেজ রোড লালবাগ মোড়, শাপলা চত্বর মোড়, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, সিটি বাজার ফুটওভার ব্রিজ, জিলা স্কুল মাঠ, বটতলা, ক্যান্ট পাবলিক কলেজ সংলগ্ন ফ্লাইওভার, আরএএমসি শপিং সেন্টার চত্বরসহ নগরীর দর্শনীয় স্থানগুলোতে গিজগিজ করছে মানুষ। করোনার ২ বছর যেমন মানুষ বেড়েছে তেমনি বিনোদনকেন্দ্র কিংবা দর্শনীয় স্থান বাড়েনি। যার কারনে অল্প কিছু স্থানে অনেক মানুষের সমাগম।
এদিকে সংস্কৃতি পাড়া খ্যাত টাউনহল চত্বরে সংস্কৃতি কর্মীদের জমিয়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। এসময় ছোট ছোট পরিসরে নিজেদের মধ্যে গান, গল্পে মেতে ওঠেছে সবাই। এভাবেই করোনার সংকট ও দুঃসময় পেরিয়ে জনজীবনে স্বস্তির উপলক্ষ নিয়ে এসেছে যেন এবারের ঈদ।

রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডাক্তার মো. আমবার আলী তালুকদার বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব কমায় সরকারি বিধিনিষেধ না থাকায় চিড়িয়াখানাসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলো খোলা রয়েছে। অনেকদিন পর শিশুসহ সব বয়সী মানুষ একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে ঘুরতে বেরিয়েছে। তবে রংপুরের সব ধরনের দর্শনীয় স্থানে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ নগর ও জেলা পুলিশ সজাগ দৃষ্টি রেখে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।