শ্রেণিকক্ষ সংকট, ভাঙ্গা ঝুকিপূর্ণ মাটি ও টিনশেডের ঘরে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২২

মোঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব, জেলা প্রতিনিধি,দিনাজপুর।।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বাসুদেবপুর হাই উল-উলুম দাখিল মাদ্রাসাটিতে ঝুকিপূর্ণ জরাজীর্ণ মাটি ও টিনশেডের ঘরে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই টিনশেড ও মাটির ঘরের চালার ফাঁকফোকর দিয়ে পানি এসে ভিজিয়ে দেয় শ্রেণিকক্ষের আসবাবসহ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের। হালকা ঝড় বাতাসেই দুলে ওঠে টিন শেডের ঘরগুলো। বলতে গেলে, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয় মাদ্রাসাটিতে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বাসুদেবপুর হাই উল-উলুম দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৯৮ সালে স্থাপিত হয় এবং ২০০৫ সালে পাঠ দানের অনুমোতি পায়। মাদ্রাসাটিতে বর্তমান ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন রয়েছে। মাদ্রাসা শুরু হয় তিনটি মাটির রুম দিয়ে পরে ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরে আরো তিনটি টিন শেডের রুম তৈরি করা হয়। মাদ্রাসায় ভালো পড়াশোনা ও পরীক্ষায় শতভাগ পাশের হারের পর ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা আরো বাড়তে থাকে তখন মাদ্রাসা কতৃপক্ষ ও এলাকা বাসির সহযোগীতায় মাদ্রাসার উত্তর দিকে তিনটি পাকা রুম ‍নির্মান করে চলে মাদ্রাসার পাঠদান। এর মধ্যে ২০১৯ সালে মাদ্রাসাটি বাংলাদেশ মিক্ষা মন্ত্রানালয়ের অধিনে জাতীয় করন করা হয়। জাতীয় করনের পর থেকে মাদ্রাসাটিতে ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা আরো দ্বিগুন বাড়ছে কিন্তু বিপত্তি বেধেছে মাদ্রাসায় শ্রেণিকক্ষ সংকট ভাঙ্গা ও জরাজীর্ণ ঝুকিপূর্ণ মাটির ঘরে ক্লাস করতে হয় কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের। মাটি ও টিনশেডের ঘরগুলো একবারেই ক্লাস করা অনুপযোগী বর্ষা মৌসুমে টিনের ফাকা দিয়ে পানি পড়ে ঝড়বৃষ্টি আসলে শ্রেনিকক্ষে পানি পড়ে ছাত্র ছাত্রীদের বই খাতা সহ জামা কাপড় ভিজে যায়। হলকা ঝড় বৃষ্টিতে টিনের চালা উড়ে যায় ।গরমের সময় টিনশেডে ঘর গুলোতে বিদুৎ ও ফ্যান না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় চরম বিপাকে।

মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন,আমাদের মাদ্রাসায় মাটির ঘরে ক্লাস করতে হয়, ঠিকমত আমারা ক্লাস করতে পারি না। আজ বৃষ্টি হয়েছে সহাঠিরা অনেকে ক্লাসে আসেনি ,কারন ঝড় বৃষ্টিহলে মাটির ঘরে পানি পড়ে মাটির ঘর গুলো দেয়ালে ফাটল ভাঙ্গা টিন যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে এজন্য অনেকে ক্লাসে ঠিকমত আসে  না। অন্য স্কুল মাদ্রাসায় ভালো ভালো বিল্ডিং ও ক্লাস রুম থাকলেও আমাদের মাদ্রাসায় নেই। আমরা চাই আমাদের মাদ্রাসায়ও ভালো ভালো ক্লসরুম তৈরি করা হউক তাহলে আমাদের ক্লাস করতে অসুবিধা হবে না।

মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছাঃ রাফিকা রিতু বলেন, আমি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছি ৫ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে খুব কষ্টকরে পড়া লেখা করতে হয়েছে। কারন আমাদের মাদ্রাসায় ভালো একটি ক্লাস রুম নেই যা আছে তা ক্লাস করার খুবই অনুপযোগী। বৃষ্টির সময় সবচেয়ে বেশি ক্লাস করতে কষ্ট হয় ভাঙ্গা টিনের ফুটো দিয়ে ক্লাসরুমে পানি পড়ে বই খাতা ভিজে যায়। তখন ঠিকমত ক্লাস হয় না। আবার একটু বৃষ্টি হলে সহপাঠিরা ক্লাসে আসতে চায় না কারন বৃষ্টি হলে আমাদের বইখাতা ভিজে যায়। আমাদের একটায় দাবি আমাদের মাদ্রাসায় একটি ভালো বিল্ডিং যেন হয় তাহলে আমাদের পড়ালেখা করতে আর কষ্ট হবে না।

মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মোঃ এনামুল ইসলাম বলেন,আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার এমন জরাজীর্ণ অবস্থায় ও মাদ্রাসার ক্লাস পরিচালনা করে আসছি।মাদ্রাসার ফলাফলো ভালো করে থাকি কিন্তু আমাদের মাদ্রাসায় একটা বিল্ডিং পাই না একটা ভালো পরিবেশ দিয়ে বাচ্চাদের ভালোভাবে লেখা পড়ার পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারি না। এসব ঝুকিপুর্ণ ঘরে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে ও ছাত্র ছাত্রীদের জীবনের ঝুকি নিয়ে আমরা ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি ।

মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষকা মোছাঃ সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমরা বিগত ১৮-১৯ বছর ধরে এই ঝুকিপুর্ণ জরাজীর্ণ মাটি ও টিনশেডের ঘরে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসতেছি। প্রথমে আমরা মাটির ঘরে পাঠদান শুরু করি। ছাত্র-ছাত্রী বেশি হলে পরে টিনশেডের কয়েকটি ঘর তৈরি করি। আমাদের নিজের ও ছাত্র ছাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে ক্লাস করতে চায় না। কিন্তু ভালো ক্লাসরুম, বিল্ডিং না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে আমাদের। মাদ্রাসাটিতে নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ আবেদন করতেছি।

মাদ্রাসার সুপার মোঃ রফিকুল্লাহ সরকার বলেন, আমাদের এ মাদ্রাসাটি ১৯৯৮ সালে স্থাপিত করা হয় ২০০৫ সালে পাঠদানের অনুমতি পাই। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো মাদ্রাসাটি যখন স্থাপিত হয় তখন তিনটি মাটির রুম দিয়ে ক্লাস শুরু হয় ।পরে মাদ্রাসাটিতে লেখা পড়া সুন্দর হওয়ায় ও ছাত্র ছাত্রীরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করায় এলাকাবাসির সহযোগীতায় ‍তিনটি পাকা রুম তৈরি করা হয় ।শ্রেনি কক্ষের সংকট ও জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে ২০১৬  সালে বিল্ডিংএর জন্য আবেদন করা হয় এবং স্থানিয় চেয়ারম্যান ও মাদ্রাসার সভাপতির মাধ্যমে মাননীয় এমপি মহাদয়ের কাছেও আবদেন করা হয়।পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২০১৯ সালে এমপিও হয় মাদ্রাসাটি । এমপিও হওয়ার পরেও কয়েকবার এমপি মহাদয়ের কাছে বিল্ডিং এর জন্য আবেদন করা হয় ।হবে হবে করে অজানা কারনে আবেদনের ৬ বছরেও বিল্ডিং বরাদ্দ পেলাম না । বিল্ডিং না থাকায় ছাত্র ছাত্রীদের খুবই কষ্ট করে পড়া লেখা করতে হয় ।আমাদের ছাত্র ছাত্রীদের ভোগান্তির দিকে খেয়াল করে নতুন ভবন নির্মান করা হোক। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে আমাদের বিশেষ  অনুরোধ ।

মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও অমরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এবং সাবেক চেয়ারম্যান হেলাল সরকার মুঠো ফোনে বলেন, মাদ্রাসা ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে আমাদের চেষ্টা চলছে ভবন নির্মানের জন্য। ব্যস্ত আছি পরে এ বিষয়ে কথা হবে বলে ফোনের লাইন কেটে দেন তিনি।

চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী বলেন, বাসুদেবপুর হাইউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় শ্রেণিকক্ষ সংকট সেখানে ছাত্র ছাত্রীরা ঝুকিপুর্ণ ভাবে ক্লাস করেন এটার সমাধান হওয়া উচিৎ। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যমে এমপি মহদয়ের কাছে প্রস্তাব যায় সে হিসেবে পাশ হয়ে আসে। উপজেলায় যতগুলো প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষ সংকট আছে সবগুলোতে নতুন ভাবে ভবন নির্মান করা হবে সে অনুযায়ী চাহিদা পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি ।