সামান্য বৃষ্টি হলে সড়কে জমে হাটুকাঁদা, জনদুভোর্গ চরমে

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২২

হযরত বেল্লাল,  সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ

সামান্য বৃষ্টি বাদলে পানি জমে হাটু কাঁদায় পরিনত হওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ-পাঁচপীর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সে কারণে জনদুর্ভোগ চরমে। উপজেলার পূর্বাঞ্চলের ৭টি ইউনিয়নের পথচারিগণকে ১৫ কিলোমিটার পথঘুরে উপজেলা শহরে আসতে হচ্ছে। বিষয়টি দেখার কেউ নেই।

উপজেলার সাথে পূর্বাঞ্চলের বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর, শান্তিরাম ও কাপাসিয়া ইউনিয়নবাসির চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে সড়কটি। উপজেলার সাথে পাঁচপীর -চিলমারি তিস্তা পিসি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়কে রুপান্তর করার লক্ষে ২০১৫ সাল হতে  সুন্দরগঞ্জ-পাঁচপীর সড়কের নির্মাণ কাজ চলামান রয়েছে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং উদাসিনতার কারণে দীর্ঘদিনেও সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি। যার কারণে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে উপজেলার পূর্বাঞ্চলের ৭টি ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষকে দুভোর্গ পোয়াতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিদারুন কষ্ট শিকার করতে হচ্ছে। উপজেলা শহর হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কটি পাকা করণের লক্ষে খোয়াবালি ভরাটের কাজ চলামান রয়েছে।

বেলকা বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন হতে পথচারিগণকে চরম দুভোর্গ পোয়াতে হচ্ছে। গ্রীষ্মকালে ধুলাবালী এবং বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে পানি জমে হাটুকাদায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অফিসিয়ালসহ বিভিন্ন কাজের জন্য উপজেলা শহরে প্রতিদিন হাজারও মানুষকে যেতে হয়। এ অবস্থার কারণে ১৫কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা শহরে যেতে হচ্ছে পথচারিগণকে।

অটোবাইক চালক লিটন মিয়া জানান, বৃষ্টির কারণে গত ১৫দিন হতে সড়কটি দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এখন উপজেলা শহরে যেতে হলে শোভাগঞ্জ ভায়া বালারছিড়া হয়ে ১৫ কিলোমিটার পথঘুরে যেতে হচ্ছে। ভাড়া বেশির কারণে যাত্রীদের সাথে বাকবিতন্ডা লেগেই চলছে প্রতিদিন।

মাদ্রাসার শিক্ষক আতোয়ার রহমান  জানান, সড়কে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছে না। অনেকের স্কুল ড্রেস প্রতিনিয়ত কাঁদা লেগে নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় স্কুলে পৌছতে বিলম্ব হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ জানান, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহুবার তাগাদা দেয়ার পরও কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বর্তমানে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল একবারে বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্কুল কলেজগামি ছেলে-মেয়ে, চাকরিজীবী ও পথচারিগণকে অতিকষ্ট করে ভিন্ন পথদিয়ে ঘুরে ফিরে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন খান জানান, জমি অধিগ্রহন এবং ভুমি মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ সূত্রিতার  কারণে সড়কটির নির্মাণ কাজ পিছিয়ে গেছে। গত ৩ মাস হতে পুরোদমে নির্মাণ কাজ চলছে। পাঁচপীর হতে উপজেলা শহরে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। বর্ষাকালে নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় পথচারিগণের একটু সমস্যা হবে। সে কারণে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প পথদিয়ে চলাচল করতে হবে।