খেলাধুলার মূল কথা হলো প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করা- ইউএনও মিজাবে রহমত

প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২২

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।

খেলাধুলার মূল কথা হলো প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করা। প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরী করে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্ব। খেলাধুলার সঙ্গে স্বাস্থ্য ও মনের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সুস্থ দেহ মানেই সুস্থ মন। খেলাধুলা জীবনকে করে সুন্দর, পরিশীলিত। তাছাড়া বর্তমান সরকারের সফলতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পরিচিতি ও সম্মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা অতুলনীয়’- বলেছেন তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত।

মঙ্গলবার (১৫ই মার্চ) সকালেতারাকান্দা উপজেলার গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্ভোধনী বক্তব্যে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  আলহাজ্ব বাবুল মিয়া সরকার,সিনিয়র সহ সভাপতি মেজবাহ উল আলম রুবেল চৌধুরী, ১ নং তারাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাদেমুল আলম শিশির,৮ নং কামারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম আজহারুল ইসলাম সরকার সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন  গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ দুলাল মিয়া।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত  আরো বলেন,‘খেলাধুলা দেশের জন্য একান্তভাবে প্রয়োজন। যতবেশি খেলাধুলার সঙ্গে আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে সম্পৃক্ত রাখতে পারবো তারা ততবেশী সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। চিন্তা-চেতনায়, মন-মননে অনেক বেশি শক্তিশালী, অনেক বেশি উন্নত হবে তারা।

উল্লেখ্য ইউএনও মিজাবে রহমত নিজেও ব্যাক্তিগতভাবে একজন প্রচন্ড ক্রীড়ানুরাগী। উপজেলার যেখানেই গুরুত্বপূর্ণ খেলা হয়েছে, সেখানেই তিনি ছুটে গেছেন। এ প্রসঙ্গ টেনে ইউএনও  বলেন,‘শত ব্যস্ততার মাঝে আমি যখনই সুযোগ পাই, তখনই উপজেলার যেকোন স্থানে  খেলা দেখার জন্য ছুটে যাই।

খেলাধুলার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন,‘খেলাধুলা যেমন মানুষের মনকে সুন্দর রাখে, তেমনি জীবনের চলার পথটা করে দেয় সুন্দর। সুস্থ দেহ থাকলে, একটা সুস্থ মনও থাকবে। এই মন বিপথগামী হবেনা । এই যেমন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকাসক্তি-মানুষের মন-মানসিকতা একেবারেই নষ্ট করে দিচ্ছে। সমাজকে কলুষিত করে দিচ্ছে। এখান থেকে আমাদের যুব-সমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

’ তিনি বলেন,‘ খেলাধুলায় সাফল্য অর্জন করতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিকল্পনা। এক্ষেত্রে ক্রীড়া সংগঠকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাংগঠনিক ভিত না থাকলে ক্রীড়াবিদদের প্রতিভার যেমন বিকাশ হয়ন না, তেমনিভাবে নতুন নতুন খেলোয়াড়ও উঠে আসে না। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায়

আমরা প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচীর মাধ্যমে তৃর্ণমূল পর্যায় হতে খেলোয়াড় সংগ্রহ এবং নিয়মিত, নিবিড়, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরী করছি। সে লক্ষেই গ্রামীণ বিলুপ্তপ্রায় খেলাধুলাকে উজ্জ্বীবিত করার লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে নতুন কর্মসূচী।

এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় সভাপতিত্ব করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, মোঃ ফজলুল হক,  সহকারী কমিশনার ভূমি জিন্নাত শহিদ পিংকি,

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রদিপ চক্রবর্তী রনু ঠাকুর, সাধারণ সম্পাদক  বাবুল মিয়া সরকার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম নয়ন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান  সালমা আক্তার কাকন, তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ  আবুল খায়েরসহ উপজেলাধীন ১০টি ইউনিয়নের  ইউনিয়ন পরিষদ চেযারম্যানবৃন্দ, উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।