কাঠের মই বেয়ে উঠতে হয় ব্রিজে চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত: ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২১

এম আজিজুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি।।দীর্ঘ নয় বছরেও ব্রিজের দু’পাশে নির্মিত হয়নি সংযোগ সড়ক। ব্রিজ আছে; ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়কের মাটি নেই। তাই কাঠের মই বেয়ে উঠে তার পর ব্রিজ পার হতে হয়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে।

সংযোগ সড়কবিহীন এই ব্রিজ রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার ১নং আটারকছড়া ইউনিয়ন ও মিজান মুন্সির বাড়ির সামনে মাইনী নদীর উপর।ব্রিজের এক পাশে ১নং আটারকছড়া ইউনিয়ন অন্য পাশে মিজান মুন্সির বাড়ি। সেখানে বসবাস করে প্রায় ৫০টি পরিবার। এলাকাবাসীর দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকাবাসীর যাতায়াত করতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

যাতায়াতের জন্য কাঠের মই বেয়ে উঠে তার পর ব্রিজটি পার হতে হয়। মাটি থেকে প্রায় ৮ থেকে ৯ ফুট উচ্চতায় ব্রিজটিতে মই লাগিয়ে তাদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে হচ্ছে । এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন নারী ও শিশুরা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয়রা কাঠের মই বেয়েই মাথায় বা কাঁধে করে উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে যাচ্ছেন। তবে শুল্ক মৌসুমে কাঠের মই দিয়ে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে তাদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

আরো জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ব্রিজটি। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় এর সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী।। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধের জন্য ব্রিজটি মরণ ফাঁদ। যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। মই দিয়ে চলাচল করার সময় মই থেকে পড়ে অনেকই আহতও হয়েছেন। তাই ব্রিজটির দুই পাশে মাটি দিয়ে সংযোগ সড়ক তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।

১নং আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা ও সদস্য আব্দুর রহমান জানান, ব্রিজটি এলাকার মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও ৮ থেকে ৯ বছর ধরে সামান্য কাজের জন্য এর সুফল পাচ্ছে না জনগণ।যেহেতু জেলা পরিষদ করেছে সেহেতু জেলা পরিষদই সম্পূর্ণ করতে পারে। তবে জনগনের চলাচলের কথা চিন্তা করে কাজটি দ্রুত করে শেষ করার জন্য কতৃপক্ষের নিকট তারা দাবি জানান।