ড্রাগন ফল চাষে সফলতা দেখছে ঝালকাঠির আনিস

প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২১

আবু সায়েম আকন, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি।।

পরিবর্তনশীল এই যুগে কৃষি খাতের নতুন-নতুন উদ্ভাবন এবং আধুনিকায়নে কৃষকরা ঝুঁকছেন আধুনিক কৃষি বিপ্লবের দিকে। এতে পরিত্যক্ত জমিও আসছে কৃষির আওতায়,স্বল্প শ্রম ও অল্প পুঁজিতে ফসলের আশাতিত ফলনের কৃষি খাত গুলো গ্রামীণ অর্থনীতিকে করে তুলেছে সমৃদ্ধ। সমৃদ্ধশীল কৃষি উন্নয়নের ঝালকাঠির রাজাপুরে সবজি উৎপাদন এবং পোল্ট্রি ও মালটার সফলতার পর এবার বিদেশী ফল ড্রাগন বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদের আবাদ শুরু হয়েছে।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের একমাত্র চাষী আনিসুর রহমাননের করা ড্রাগন বাগান ঘুরে দেখা যায়, তিনি ২বিগা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। আট মাস আগে এক হাজার ও দেড়মাস আগে এক হাজার পাচঁশত চারা রোপণ করেছেন। বর্তমানে তার বাগানে দুই হাজার পাচঁশত ড্রাগন চারা রোপণ করা হয়েছে।

কৃৃষিবিদদের মতে,পুষ্টিগুণে, ভিটামিন সি, মিনারেল এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত, ফিবার, ফ্যাট, ক্যারোটিণ, প্রচুর ফসফরাস, এসকরবিক এসিড, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন থাকায়, ক্যারোটিন চোখ ভালো রাখে, আঁশের পরিমাণ বেশি থাকায় হজম ও চর্বি কমায়, ড্রাগনের বিদ্যমান প্রোটিন শরীরের যাবতীয় বিপাকীয় কাজে সহায়তা, ক্যালসিয়ামে হাড় শক্ত ও দাঁত মজবুত, ভিটামিন বি-৩ রক্তের কোলেস্টেরল কমানো ত্বক মসৃণ, ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ত্বক, দাঁত ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে থাকে।

ড্রাগনে এতসব ঔষধী গুণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিদ্যামান থাকায় এর কদর ছড়িয়ে পড়ছে দেশ জুড়ে, লাভবান হয়ে উঠছে চাষী, গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাও হয়ে উঠছে সচল।

রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের সাংঙ্গর গ্রামের প্রান্তিক চাষী আনিসুর রহমান (৩৫) সাথে কথা বলে জানা যায়, তার পরিত্যক্ত অকৃষি ২বিগা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেন, এখন কিছু গাছে ফল আসা শুরু করছে। হয় তো আগামী বছরের পরিপূর্ণ ফল পাবে বলে আশা করছে। মাটি, আবহাওয়া ড্রাগন চাষের অনুকুলে থাকায় ফলন ভাল হবে বলে আশা করছেন। নানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকায় এই ফলের ব্যাপক কদর থাকায় তিনি সরকারি কোনো অনুধান পেলে নতুন করে আরও বেশি জমিতে ড্রাগনের আবাদ বাড়াবেন বলে জানান।

তবে আনিসুর রহমান আরো একটি সমস্যার সম্মুখীন হওয়া লাগতে পারে পরে ধারনা করছেন। তিনি বলেন, ফলন ভালো হলেও সমস্যায় পরা লাগতে পারে বাজারজাত করা নিয়ে। শহরাঞ্চলে এর চাহিদা থাকলেও মফস্বল শহরে এর চাহিদা নেই বললেই চলে। মফস্বলে এর চাহিদা বাড়াতে না পারলে পাঠাতে হবে ঢাকা সহ দেশের বড় শহর গুলোতে। আর তখনই উৎপাদন খরচ এবং পরিবহন খরচ দুটো মিলিয়ে আমার আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তাই সরকারী ভাবে যদি এর উপকারিতা জানান দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারনা চালানো হয় তাহলে আমরা আরো আগ্রহী হবো ড্রাগন চাষে।

রাজাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামন মনির জানান, রাজাপুর উপজেলায় এখনও অনেক অকৃষি অনাবাদী জমি রয়েছে, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে অকৃষি জমিগুলো ড্রাগন চাষের আওতায় এনে কৃষকদের ড্রাগন চাষে উদ্ভুদ্ধ করলে, গ্রামীন অর্থনীতি হয়ে উঠবে শক্তিশালী। বেকার জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দুর হয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে গ্রামীণ জনপদে।

রাজাপুর উপজেলা কৃষি অফিসর মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর বলেন, উপজেলায় ২বিগা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছে,নতুন অর্থ বছরে ড্রাগন চাষ লক্ষ মাত্রার চেয়েও বেশী হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিকর্মকর্তা।

তিনি আরও জানান, রাজাপুর উপজেলার মাটি ফল জাতীয় চাষাবাদের জন্যে অধিক উপযোগি থাকায়, এখানকার কৃষকরা নতুন-নতুন ফলের আবাদ করছে, মালটার সফলতার পর এবার তারা ড্রাগন চাষেও সফলতা বয়ে আনছে। এতে বিশাল জনগোষ্ঠির পুষ্টি ঘাটতি কমে আসবে,অর্থনীতিও হয়ে উঠবে শক্তিশালী,কৃষকরা যাতে ড্রাগন ফল আরও বেশী করে চাষ করতে পারে তার জন্যে নতুন-নতুন উদ্যেক্তা সৃষ্টি করতে কৃষি অফিস মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে,এর মধ্যদিয়েই রাজাপুর উপজেলার ড্রাগন বিদেশেও রপ্তানী করে অর্থ আয় করা সম্ভব বলেও মত দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা ।

এছাড়াও দেশের মোট চাষভুক্ত জমির মধ্যে ফলের আওতায় রয়েছে মাত্র ২% জমি অথচ জাতীয় অর্থনীতিতে মোট ফসলভিত্তিক আয়ের ১০% আসে ফল থেকেই। তাই বাংলাদেশের জনগণের খাদ্য পুষ্টির চাহিদা পুরণসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে ড্রাগনের গুরুত্ব অপরিসীম।

ফল ও ফলজাত দ্রব্যাদি রফতানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। ডিএই এর তথ্য মতে, বিদেশে ৫,৭৯৭ মে. টন ফল রফতানি করা হয়, যা প্রতি বছর বেড়েই চলেছে। ফলে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।